পরিবেশ ও উন্নয়ন Environment and Development PART-2 – পরিবেশ ও উন্নয়নের সম্পর্কটি হলো এমন যে, ঐতিহাসিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রায়শই পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। তবে, আধুনিক ধারণা অনুযায়ী এই দু’টিকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে দেখা হয়।
এর মূল ধারণাটি হলো টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development)। এর লক্ষ্য হলো এমনভাবে উন্নয়ন করা, যা বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করবে, কিন্তু একই সাথে পরিবেশের সুরক্ষা বজায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদার সক্ষমতা নষ্ট করবে না। সহজ কথায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করা।
Table of Contents
READ MORE – পরিবেশ ও উন্নয়ন Environment and Development PART-1
পরিবেশ ও উন্নয়ন Environment and Development PART-2
1) দূষণ কাকে বলে?
উত্তর:- আমাদের পরিবেশের জল, স্থল ও বায়ুর ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অবাঞ্ছিত পরিবর্তন যা মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও কৃষ্টির পক্ষে ক্ষতিকারক তাকেই দূষণ বলে।
2) পরিবেশদূষণ কাকে বলে?
উত্তর:- পরিবেশবিদ ওডামের মতে, বায়ু, জল, মাটি প্রভৃতির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে অনভিপ্রেত পরিবর্তন মানবসভ্যতাকে বা কোনো প্রজাতির জীবনকে, কোনো শিল্পের প্রক্রিয়াকে, কোনো সজীব অস্তিত্বকে এবং কোনো সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বা করতে পারে, তাকে পরিবেশদূষণ বলে।
3) দূষণকারক পদার্থ কাকে বলে?
উত্তর:- পরিবেশ দূষণকারী জৈব ও অজৈব পদার্থকে দূষণকারক পদার্থ বলে।
4) ওডামের মতে, দূষণকারক পদার্থসমূহকে কয় ভাগে ভাগ করা হয় ও কী কী?
উত্তর:- ওডামের মতে, দূষণকারক পদার্থসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- (i) ভঙ্গুর দূষক এবং (ii) অভঙ্গুর দূষক।
5) ভঙ্গুর দূষক কাকে বলে?
উত্তর:- যেসব দূষক পদার্থের প্রাকৃতিক পরিবেশে সহজেই ভগ্নদশা দেখা যায় এবং পরে ক্ষতিকারক বস্তুরূপে কাজ করে না, তাকে ভঙ্গুর দূষক বলে। যেমন- গ্রাম ও শহরের নোংরা আবর্জনা।
6) অভঙ্গুর দূষক কাকে বলে?
উত্তর:- যেসব দূষক পদার্থ প্রাকৃতিক পরিবেশে বিয়োজিত হয় না বা হলেও খুব ধীর গতিতে হয় এবং পরে ক্ষতিকারক বস্তুরূপে কাজ করে, তাদের অভঙ্গুর দূষক বলে। যেমন-DDT ও প্লাস্টিক।

7) বায়ুদূষণ কাকে বলে?
উত্তর:- বায়ুতে উপস্থিত বস্তুসমূহের যে ঘনত্ব, মানুষ ও তার পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, তাকে বায়ুদূষণ বলে।
8) অ্যানথ্রোপোজেনিক পদার্থ কাকে বলে?
উত্তর:- মনুষ্যসৃষ্ট দূষণকারী গ্যাসগুলিকে অ্যানথ্রোপোজেনিক পদার্থ বলে।
9) একটি অ্যানগ্রোপোজেনিক’ গ্যাসের নাম করো।
উত্তর:- একটি ‘অ্যানথ্রোপোজেনিক’ গ্যাস হল- CO₂ (কার্বন ডাইঅক্সাইড)।
10) জেনোবায়োটিক পদার্থ বলতে কী বোঝো?
উত্তর:- অপরিচিত পদার্থ যা জৈব পদ্ধতিতে সৃষ্টি হয় না, তাদের জেনোবায়োটিক পদার্থ বলে।
11) ‘জেনোবায়োটিক’ গ্যাসের উদাহরণ কী?
উত্তর:- ‘জেনোবায়োটিক’ গ্যাসের উদাহরণ হল-CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন)।
12) প্রাথমিক দূষণকারী পদার্থ কাকে বলে?
উত্তর:- যেসকল দূষণকারী পদার্থ পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর এবং মনুষ্যসৃষ্ট কারণে তৈরি হয়, তাকে প্রাথমিক দূষণকারী পদার্থ বলে।
13) বায়ুদূষকের শ্রেণিবিভাগ কীভাবে করা যায়?
উত্তর:- উৎসের উপর নির্ভর করে বায়ুদূষককে দু-ভাগে বিভক্ত করা হয়, যেমন- (i) প্রাকৃতিক বায়ুদূষক এবং (ii) মনুষ্যসৃষ্ট বায়ুদূষক।
14) নাইট্রোজেনের প্রধান তিনটি প্রাথমিক দূষণকারী পদার্থ কী কী?
উত্তর:- N₂O (নাইট্রাস অক্সাইড), NO (নাইট্রিক অক্সাইড) এবং NO₂ (নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড) হল নাইট্রোজেনের প্রধান তিনটি প্রাথমিক দূষণকারী পদার্থ।
15) গৌণ দূষক কাকে বলে?
উত্তর:- যে-সমস্ত দূষক পদার্থ দুই বা ততোধিক প্রাথমিক বায়ুদূষকের সংমিশ্রণে তৈরি হয়, তাদের গৌণ বায়ুদূষক বলে। উদাহরণ-ওজোন, সালফার ট্রাইঅক্সাইড।
16) একটি গৌণ বায়ুদূষকের উদাহরণ দাও।
উত্তর:- একটি গৌণ বায়ুদূষক হল PAN।
17) কোন্ এলাকার বাতাসে SO₂ গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকে?
উত্তর:- শিল্প এলাকা যেখানে কলকারখানার সংখ্যা অনেক বেশি সেখানে বাতাসে SO₂ গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকে।
18) বাতাসে SO₂-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে মানুষের কী রোগ হয়?
উত্তর:- বাতাসে SO₂-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে মানুষের শ্বাসনালির প্রদাহ হয় এবং তা থেকে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্যাস প্রশ্বাসের সময় গ্রহণ করলে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ হয়।
19) SO₂-এর একটি প্রাকৃতিক উৎসের নাম লেখো।
উত্তর:- আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণের সময় SO₂ গ্যাস উৎপন্ন হয়।

20) একটি গ্যাসের নাম বলো যা বিশ্ব উন্নায়ন ঘটায় না।
উত্তর:- অক্সিজেন গ্যাস বিশ্ব উন্নায়ন ঘটায় না।
21) CFC-এর একটি উৎসের নাম বলো।
উত্তর:- CFC-এর একটি উৎস হল- রেফ্রিজারেটার।
22) হাইড্রোকার্বন কী কী নিয়ে গঠিত?
উত্তর:- হাইড্রোকার্বন হাইড্রোজেন ও কার্বন নিয়ে গঠিত।
23) কার্বনের কয়টি অক্সাইড ও কী কী?
উত্তর:- কার্বনের দুটি অক্সাইড-CO₂ (কার্বন ডাইঅক্সাইড) এবং CO (কার্বন মনোক্সাইড)।
24) ‘কার্বন footprint’ কী?
উত্তর:- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো জাতি দ্বারা বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণকেই কার্বন ফুটপ্রিন্ট বলা হয়।
25) সালফার ডাইঅক্সাইডের বায়বীয় জারণের ফলে মাটিতে কোন্ কণিকার সৃষ্টি হয়?
উত্তর:- সালফার ডাইঅক্সাইডের বায়বীয় জারণের ফলে মাটিতে গন্ধক সালফার কণিকার সৃষ্টি হয়।
26) এরোসল (Aerosol)-এর প্রধান উপাদান কী?
উত্তর:- এরোসল-এর প্রধান উপাদান হল- CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন)।
27) এরোসল কোথা থেকে উৎপন্ন হয়?
উত্তর:- এরোসল ভাঙা রেফ্রিজারেটার ও জেট প্লেন থেকে উৎপন্ন হয়।
28) ‘PAN’ কী?
উত্তর:- ‘PAN’ (পারক্সি-অ্যাসিটাইল নাইট্রেট) সাধারণত হাইড্রোকার্বন ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO)-এর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন একটি ক্ষতিকারক পদার্থ।
29) পরিবেশে নাইট্রাস অক্সাইডের উৎস কী কী?
উত্তর:- ডিনাইট্রিফিকেশন পদ্ধতিতে নাইট্রেট লবণ থেকে নাইট্রাস অক্সাইড সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সারের ব্যবহারও মাটিতে ও জলে নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে।
30) বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাড়ার ফলে প্রধান সমস্যা কী হয়?
উত্তর:- বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাড়ার ফলে বিশ্ব উন্নায়ন সৃষ্টি হয়।

31)ধোঁয়াশা (smog) কাকে বলে?
উত্তর:- বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক পদার্থ, বায়ু ও ধোঁয়া যখন একসঙ্গেঙ্গ মিলিত হয়ে মেঘের মতো ঘন কালো হয় তখনই তাকে ধোঁয়াশা বলে।
32) 1952 খ্রিস্টাব্দে ধোঁয়াশায় (Smong) বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে কোথায়?
উত্তর:- 1952 খ্রিস্টাব্দে ধোঁয়াশায় বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে লন্ডনে।
33) এরোসল কাকে বলে?
উত্তর:- আমাদের চারপাশে বাতাসে ভাসমান বিভিন্ন ধরনের কঠিন ও জলীয় পদার্থের সুক্ষ্ম কণিকাকে এরোসল বলে।
34) এরোসল-এর একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:- এরোসল-এর একটি উদাহরণ হল- ধূলিকণা।
35) বাতাসে এরোসল-এর উৎস কী?
উত্তর:- জৈব পদার্থের দহন, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার ফলে এরোসল সৃষ্টি হয় ।
36) এরোসল কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর:- প্রবল হাওয়ার বেগে মাটি থেকে সৃষ্ট ধূলিকণা, সমুদ্রের ঢেউ-এর ধাক্কায় সৃষ্ট জলকণা, জৈব পদার্থের দহনের ফলে সৃষ্ট গ্যাস এবং বাতাসে ভাসমান ফুলের রেণু একসঙ্গে মিলিত হয়ে এরোসল বা ভাসমান কণা সৃষ্টি করে।
37) এরোসল কিভাবে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে?
উত্তর:- এরোসল বর্ষার জলের সঙ্গে অধঃক্ষিপ্ত হয়ে মাটিতে ফিরে আসে অথবা প্রাকৃতিক উপায়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এলে মাটিতে মিশে যায়।
38) বাতাসে কার্বন মনোক্সাইডের একটি উৎসের নাম লেখো।
উত্তর:- বাতাসে কার্বন মনোক্সাইডের উৎস হল-জীবাশ্ম জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহন, হাইড্রোকার্বনের জারণ।
39) SPM-এর পুরো কথাটি কী?
উত্তর:- SPM-এর পুরো কথাটি হল-Suspended Particulate Matter.
40) অম্লবৃষ্টি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর:- বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে সৃষ্ট সালফার ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাসের ধোঁয়া বাতাসের জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে যথাক্রমে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে অম্লবৃষ্টি সৃষ্টি করে।
41) ‘স্মগ’ (Smog) কাকে বলে?
উত্তর:- ধোঁয়া ও কুয়াশার সংমিশ্রণে ধোঁয়াশা বা স্মগ সৃষ্টি হয়।
42) অম্লবৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব কী?
উত্তর:- অম্লবৃষ্টির ফলে বনজঙ্গলের গাছপালা, শস্যখেতের ফসল ও জলাশয়ে বসবাসকারী জীবের নানারূপ ক্ষতিসাধন হয়। প্রাচীন স্থাপত্য, নিদর্শনও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
43) অম্লবৃস্টির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি স্থাপত্যের নাম উল্লেখ করো।
উত্তর:- আগ্রার তাজমহল, দিল্লির লালকেল্লা, কুতুবমিনার, কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল প্রভৃতি অম্লবৃষ্টির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

44) উল্কাবৃষ্টি কি বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে?
উত্তর:- হ্যাঁ, উল্কাবৃষ্টি বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে।
45) প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান কী?
উত্তর:- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হল- হাইড্রোকার্বন।
46) যানবাহন, তামাকের ধোঁয়া এবং পিচ থেকে কী উৎপন্ন হয়?
উত্তর:- যানবাহন, তামাকের ধোঁয়া এবং পিচ থেকে উৎপন্ন হয়- বেঞ্চোপাইরিন (Benzopyrine)।
47) কার মিষ্টি গন্ধ দীর্ঘদিন বাতাসের সংস্পর্শে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুর ক্ষতিসাধন করে?
উত্তর:- অ্যাসিটোন-এর মিষ্টি গন্ধ দীর্ঘদিন বাতাসের সংস্পর্শে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুর ক্ষতিসাধন করে।
48) অ্যানিমিয়া, লিউকোমিয়া, ক্যানসার সৃষ্টিকারী মিষ্টি গন্ধযুক্ত রাসায়নিকটির নাম কী?
উত্তর:- অ্যানিমিয়া, লিউকোমিয়া, ক্যানসার সৃষ্টিকারী মিষ্টি গন্ধযুক্ত রাসায়নিক হল বেঞ্জিন।
49) CFC সমন্বিত কোন্ রাসায়নিক যৌগটি ‘এয়ার কন্ডিশনার’, ‘রেফ্রিজারেটার’-এ ডিওডরেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:- ফ্রিয়োন-11 রাসায়নিক যৌগটি ‘এয়ার কন্ডিশনার’, ‘রেফ্রিজারেটার’-এ ডিওডরেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
50) আমাদের বায়ুমন্ডলে বছরে কত পরিমাণ CFC উৎপন্ন হয়?
উত্তর:- আমাদের বায়ুমণ্ডলে বছরে 0.9 মিলিয়ন মেট্রিক টন CFC উৎপন্ন হয়।
51) কলকাতা শহরে শতকরা কত ভাগ বায়ুদূষণ হয় যানবাহন থেকে?
উত্তর:- কলকাতা শহরে শতকরা 30 ভাগ বায়ুদূষণ হয়ে থাকে যানবাহন থেকে।
52) SO₂-এর বেশি ঘনত্বে কোন্ জাতীয় উদ্ভিদ বেশি প্রবাহিত হয়?
উত্তর:- SO₂-এর বেশি ঘনত্বে লাইকেন জাতীয় উদ্ভিদ বেশি প্রবাহিত হয়।
53) অটোমোবাইল থেকে উদ্ভূত বায়ুদূষণকারী পদার্থগুলির নাম কী কী?
উত্তর:- অটোমোবাইল থেকে উদ্ভূত বায়ুদূষণকারী পদার্থ হল নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন, কার্বন মনোক্সাইড ও লেড।
54) MIC-এর পুরো কথা কী?
উত্তর:- MIC-এর পুরো কথা হল-মিথাইল আইসোসায়ানেট।
55) মোটরযান থেকে নিঃসৃত একটি বিষাক্ত গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর:- মোটরযান থেকে নিঃসৃত একটি বিষাক্ত গ্যাস হল- কার্বনমনোক্সাইড।
56) মানুষের শরীরের উপর সিসার একটি বিরূপ প্রভাব উল্লেখ করো।
উত্তর:- মানুষের শরীরের উপর সিসার একটি বিরূপ প্রভাব হল-শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষতি হয়।
57) পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে মানব স্বাস্থ্যের সম্পর্ক কী?
উত্তর:- পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ক্রান্তীয় রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বাড়ে। লিসমেনিয়া, ট্রাইপানোসোমা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, হাম, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস, কালাজ্বর, এনকেফালাইটিস ইত্যাদি রোগ হতে পারে।
58) ‘অ্যাসবেস্টোসিস’ (Asbestosis) কী?
উত্তর:- অ্যাসবেস্টস উৎপাদক কারখানার শ্রমিকদের দেহে ফুসফুসের যে রোগ হয়, তাকে অ্যাসবেস্টোসিস বলে। অ্যাসবেস্টসের গুঁড়ো ফুসফুসে গিয়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও কাশি-সহ জ্বর, রক্তাল্পতা, অবসাদ প্রভৃতি লক্ষণ সৃষ্টি করে।
59) অ্যানথ্রাকোসিস কাকে বলে?
উত্তর:- ফুসফুসে কয়লার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুঁড়ো জমা হয়ে যে-সমস্ত শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে, তাদের একত্রে অ্যানথ্রাকোসিস বলে।
60) ‘COPD’-এর পুরো কথাটি কী?
উত্তর:- ‘COPD’-এর পুরো কথা হল-Chronic Obstructive Pulmonary Disease (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ)।
61) ‘COPD’-কী?
উত্তর:- ‘COPD’-কথাটির অর্থ-“Chronic Obstructive Pulmonary Disease”। এমফাইসেমা, ক্রনিক ব্রংকাইটিস, কোভিড-19 সহ যেসব রোগে আক্রান্ত হলে রোগির ফুসফুসে বায়ু চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং শ্বাসক্রিয়া যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে, তাদের COPD বলা হয়।
62) পেট্রোলচালিত যানবাহন নির্গত সিসা ও সিসাঘটিত যৌগ মানুষের দেহে কী ক্ষতি করে?
উত্তর:- পেট্রোলচালিত যানবাহন নির্গত সিসা ও সিসাঘটিত যৌগ মানুষের দেহে হিমোগ্লোবিন গঠনে বিঘ্ন ঘটায়।
63) দূষিত বায়ুতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোন্ যৌগের উপস্থিতি দেখা যায়?
উত্তর:- দূষিত বায়ুতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বেঞ্ঝোপাইরিন (Benzopyrine) যৌগের উপস্থিতি দেখা যায়।
64) ক্লোরোসিস কী?
উত্তর:- ক্লোরোসিস হল ক্লোরোফিল নষ্ট হওয়ার কারণে উদ্ভিদের সবুজ রং ফ্যাকাশে হওয়া।
65) কোন্ গৌণ বায়ুদূষকের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের দাঁত ও মাড়ি সংক্রান্ত রোগ দেখা যায়?
উত্তর:- হাইড্রোজেন ফুরাইডের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের দাঁত ও মাড়ি সংক্রান্ত রোগ দেখা যায়।
66) ব্যাটারি শিল্প থেকে নির্গত একটি দূষক ধাতুর নাম লেখো।
উত্তর:- ব্যাটারি শিল্প থেকে নির্গত একটি দূষক ধাতু হল- সিসা।
67) জৈব গ্যাসের মুখ্য উপাদান কী?
উত্তর:- জৈব গ্যাসের মুখ্য উপাদান হল-মিথেন।
68) একটি গ্যাসের নাম করো যা পৌরজাত বর্জ্য থেকে উদ্ভূত হয়?
উত্তর:- মিথেন গ্যাস পৌরজাত বর্জ্য থেকে উৎপন্ন হয়।
69) ‘GAP’-এর পুরো কথাটি কী?
উত্তর:- ‘GAP’-এর পুরো নাম হল- Ganga Action Plan.
70) বিগত 50 বছরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা আনুমানিক কতটা বেড়েছে?
উত্তর:- বিগত 50 বছরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা প্রায় 0.02% বেড়েছে।
71) ‘ICMR’-এর পুরো কথাটি কী?
উত্তর:- ‘ICMR’-এর পুরো কথাটি হল Indian Council of Medical Research (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ)।
72) ‘WTO’-র পুরো কথাটি কী?
উত্তর:- ‘WTO’-র পুরো কথাটি হল-World Trade Organization (ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন)।
73) ‘NEAC’-এর পুরো কথাটি কী?
উত্তর:- ‘NEAC’-এর পুরো কথাটি হল National Environment Awareness Campaign (ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেন)।
74) ‘উড়ন্ত ছাই’ (Fly ash) কী?
উত্তর:- তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারী কলকারখানায় কয়লা পোড়ানোর ফলে যে ছাই তৈরি হয় তার কণাগুলির ব্যাস মাত্র 0.02-10 মাইক্রোমিটার। এই সূক্ষ্ম কণার ছাই সামান্য হাওয়াতে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এদের উড়ন্ত ছাই (Fly ash) বলে।
75) জলদূষণ কাকে বলে?
উত্তর:- জলের রাসায়নিক এবং ভৌত ধর্মের গুণগত পরিবর্তন ঘটার পর তা যদি জীবকুলের পক্ষে পানের অযোগ্য বা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে বলা হয় জলদূষণ।
76) জল কী কী উপায়ে দূষিত হয়?
উত্তর:- মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলে উদ্ভুত দূষিত বর্জ্য যেমন-পয়ঃপ্রণালী বা নর্দমার দূষিত জল, কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ প্রভৃতি শহরাঞ্চল থেকে পাইপের মাধ্যমে নদীতে পড়ে জলাশয়কে দূষিত করে তোলে।
77) ইউট্রফিকেশন বা মজে যাওয়া কী?
উত্তর:- গৃহস্থালির কাজে পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত ডিটারজেন্টের প্রধান উপাদান ফসফেট যৌগ নর্দমায় বা অন্য কোনোভাবে জলাশয়ে মেশে এবং শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদের পরিপোষক খাদ্যের পরিমাণ বাড়ায় ও শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে জলের দূষণ ঘটালে তাকে ইউট্রফিকেশন বা মজে যাওয়া বলে।
78) ‘বায়ো ম্যাগনিফিকেশন’ কী?
উত্তর:- মানুষের শিল্প উন্নয়ন ও দূষণজনিত কারণে উৎপন্ন অভঙ্গুর দূষিত পদার্থ খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে জীবদেহে বারংবার সঞ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে খাদ্যশৃঙ্খলের ধাপে ধাপে কোনো কিছুর বেড়ে ওঠার ঘটনাকে ‘বায়ো ম্যাগনিফিকেশন’ বলে।
79) ‘ত্বরান্বিত ইউট্রফিকেশন’ কাকে বলে?
উত্তর:- জলে ফসফরাসের পরিমাণ বৃদ্ধি হলে দ্রুত ইউট্রফিকেশন হয়, একে ‘ত্বরান্বিত ইউট্রফিকেশন’ বলে।

81) কৃত্রিম ইউট্রফিকেশন কী?
উত্তর:- কোনো জলাশয়ের জলে মানুষের নানা ধরনের ব্যবহারজনিত কারণে ফসফেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ওই জলে ‘অ্যালগাল ব্লুম’ ঘটে থাকে। অত্যধিক মাত্রায় অ্যালগাল ব্লুম ঘটার ফলে জলের দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO)-এর পরিমাণ কমে গিয়ে ওই জলাশয়ের জলের BOD বেড়ে গিয়ে যে দূষিত অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে কৃত্রিম ইউট্রফিকেশন বলে।
81) অ্যাক্যুইফার (Acquifer) কী?
উত্তর:- অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের উপরে অবস্থিত যে প্রবেশ্য শিলাস্তর ভৌমজল (Ground water) ধরে রাখতে পারে, তাকে অ্যাক্যুইফার (Acquifer) বলে।
82) ‘লেক বুম’ (Lake Bloom) কী?
উত্তর:- জৈব আবর্জনা ও জৈব বস্তু সঞ্চিত হওয়ার কারণে হ্রদে বা পুকুরে প্রচুর জলজ উদ্ভিদ জন্মায়। এর ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায়। এই অবস্থাকে লেক ব্লুম বলে।
83) জৈব নির্দেশক (Bio-indicator) বলতে কী বোঝো?
উত্তর:- কতকগুলি জীবের উপস্থিতি, অবস্থান, কার্য, সংখ্যা যে-কোনো পরিবেশের অবস্থা বা গুণমানের নির্দেশ করে। এদেরকে জৈব নির্দেশক বলে।
84) জল পরিশোধনে অ্যাবসরপশনের ভূমিকা কী?
উত্তর:- আয়োডিনযুক্ত রেজিনের সাহায্যে অ্যাবসরপশন পদ্ধতিতে জলকে আর্সেনিক, লোহা ও জীবাণুমুক্ত করা যায়।
85) চারটি জলদূষক উপাদানের নাম লেখো।
উত্তর:- চারটি জলদূষক উপাদানের নাম হল-আর্সেনিক, ফ্লুরাইড, ক্যাডমিয়াম ও পারদ।
86) আর্সেনিক দূষণ কাকে বলে?
উত্তর:- ভূগর্ভস্থ জলের মাত্রাতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর সংলগ্ন আর্সেনিক সংযোগের ফলে মানুষ তথা পরিবেশের ক্ষতিসাধন হয়, একে আর্সেনিক দূষণ বলে।
87) সাবান বা ডিটারজেন্টের যে রাসায়নিক সবচেয়ে বেশি জলদূষণ ঘটায় তার নাম কী?
উত্তর:- সাবান বা ডিটারজেন্টের যে রাসায়নিক সবচেয়ে বেশি জলদূষণ ঘটায় তার নাম ফসফেট।
88) BOD-এর পুরো নাম কী?
উত্তর:- BOD-এর পুরো নাম Biological Oxygen Demand (বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড)।
89) COD-এর পুরো নাম কী?
উত্তর:- COD-এর পুরো নাম Chemical Oxygen Demand (কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড)।
90) আর্সেনিকের অনুমোদিত মাত্রা কত?
উত্তর:- আর্সেনিকের অনুমোদিত মাত্রা প্রতি লিটার জলে 0.05 মিলিগ্রাম।
91) ফ্লুরাইডের অনুমোদিত মাত্রা কত?
উত্তর:- ফুরাইডের অনুমোদিত মাত্রা প্রতি লিটারে 1.50 মিলিগ্রাম।
92) আর্সেনিক দূষিত এলাকায় কোন্ কোন্ সবজি চাষ করা উচিত? কোনগুলি করা উচিত নয়?
উত্তর:- আর্সেনিক দূষিত এলাকায় শিম, উম্যাটো, বিন, পিঁয়াজ ইত্যাদি চাষ করা উচিত। বোরোধান, মূলো, আলু, সয়াবিন, ওল এবং বার্লি চাষ করা উচিত নয়।
93) ppm-এর পুরো কথাটি কী?
উত্তর:- ppm-এর সম্পূর্ণ কথাটি হল- Parts per million.
94) কোন্ মৌলের প্রভাবে ‘ইটাই ইটাই’ রোগ হয়?
উত্তর:- ক্যাডমিয়াম নামক মৌলের প্রভাবে ইটাই ইটাই রোগ হয়।
95) কোন্ মৌলের প্রভাবে ফ্লরোসিস রোগ হয়?
উত্তর:- ফ্লুরিন নামক মৌলের প্রভাবে ফ্লুরোসিস রোগ হয়।
96) গঙ্গাদূষণের একটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর:- গঙ্গাদূষণের একটি প্রধান কারণ হল- কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার।
97) ভারতবর্ষে পানীয় জলে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ অনুমোদনযোগ্য সীমা কত?
উত্তর:- ভারতবর্ষে পানীয় জলে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ অনুমোদনযোগ্য সীমা 0.2 ppm।
98) মানবদেহে আর্সেনিকের প্রভাবে হওয়া একটি রোগের নাম লেখো।
উত্তর:- মানবদেহে আর্সেনিকের প্রভাবে হওয়া একটি রোগের নাম ব্ল্যাকফুট ডিজিজ।
99) ব্ল্যাকফুট ডিজিজ কাকে বলে?
উত্তর:- আর্সেনিক দূষণের ফলে পায়ের পাতায় কালো কালো দাগযুক্ত রোগকে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ বলে।
100) জলের তাপদূষণ কাকে বলে?
উত্তর:- বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও জলসম্পদকৃত শিল্পকারখানা থেকে ব্যবহারের পর উত্তপ্ত জল জলাশয়ে নিক্ষেপিত হওয়ার ফলে উৎপন্ন দুষণকে জলের তাপদূষণ বলে।