মার্কেনটাইল অর্থনীতিবাদ

মার্কেনটাইল অর্থনীতিবাদ – “মার্কেন্টাইল অর্থনীতি” শব্দটি বাদ দিয়ে, আপনি যদি “বাণিজ্যবাদ” বা “সংরক্ষণবাদ” শব্দটি ব্যবহার করেন, তাহলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। “মার্কেন্টাইল অর্থনীতি” আসলে বাণিজ্যবাদ বা সংরক্ষণবাদের একটি পর্যায়, যা সাধারণত ১৬শ থেকে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপে প্রচলিত ছিল। এই ব্যবস্থায়, একটি দেশের সরকার মনে করত যে, দেশের সম্পদ (বিশেষ করে স্বর্ণ ও রৌপ্য) বৃদ্ধি করাই হলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল লক্ষ্য। তাই, সরকার বাণিজ্যকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত, যাতে বেশি পরিমাণে রপ্তানি করা যায় এবং আমদানি কমানো যায়। 

আরও জানুন – ভারত বিভাজন

মার্কেনটাইল অর্থনীতিবাদ

মার্কেনটাইল বাদী অর্থনীতির উপর টিকা লেখ।

মার্কেন্টাইলবাদ:- অর্থনীতিবিদ অ্যাডামস্মিথ তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘ওয়েলথ্ অফ নেশনস’-এ মার্কেন্টাইলবাদ কথাটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন। মার্কেন্টাইলবাদীদের ধারণায় পৃথিবীতে সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এই মতবাদের মূল কথা হল সংরক্ষণবাদী অর্থনীতি। এই মতবাদ মেনে বিদেশি পণ্য আমদানি কমানোর জন্য আমদানি শুল্ক বাড়ানো হত। এই মতবাদের মূল লক্ষ্য হল দেশ স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধশালী করে তোলার জন্য নিজ দেশের সোনা-রূপোর মতো মূল্যবাদ ধাতুর সঞ্চয় বৃদ্ধি করা।

∆ মার্কেন্টাইলবাদের বৈশিষ্ট্য:-

• মূল্যবান ধাতুর ওপর গুরুত্ব আরোপ:-

মার্কেন্টাইল মতবাদে সোনা, রুপোসহ মূল্যবান ধাতুর বহির্গমন বন্ধ করা হয়, সঞ্চয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ শতকে এই নীতি মেনে স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডসহ নৌশক্তিতে শক্তিশালী দেশগুলি নিজ নিজ উপনিবেশ থেকে সোনা, রূপাসহ মূল্যবান ধাতুগুলি লুঠ করে নিজ নিজ দেশে আনতে শুরু করে।

• আমদানি হ্রাস, রপ্তানি বৃদ্ধি:-

মার্কেন্টাইল মতবাদে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির কথা বলা হয়। এর কারণ হিসাবে বলা হয় যে, রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশে মূল্যবান ধাতুর আগমনের পরিমা বাড়ে, তেমনি অপরদিকে দেশে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদক ও বণিকরা নতুন নতুন বাণিজ্য উৎপাদনে উৎসাহ দেখায়। অধিক পণ্য রপ্তানি করা গেলে পণ্য উৎপাদক ও বিক্রেতাদের মুনাফা বৃদ্ধি পায়। অধিক মুনাফা বৃদ্ধি পেলে মূলধনের পরিমানও বাড়ে। ফলে অতিরিক্ত মূলধন নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনের কাজে লাগানো যায়।

• অবাধ বাণিজ্যের বিরোধিতা:-

মার্কেন্টাইল মতবাদে বলা হয় যে, অন্য দেশের স্বার্থ রোধ করে নিজে দেশের বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো উচিত। এই উদ্দেশ্যে অন্য দেশের বাণিজ্য নীতির উপর আমদানি শুল্ক চাপিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত এবং নিজের দেশের শিল্পোদ্যোগ ও শিল্পনীতিকে শুল্কমুক্ত করে ও ভর্তুকি দিয়ে উৎসাহ জাগানো উচিত। অবাধ বাণিজ্যের পরিণতি হিসাবে নৌশক্তিতে শক্তিশালী দেশগুলি নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জড়িয়ে পড়ে।

• শিল্প-বাণিজ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ:-

এই মতবাদে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যে রাষ্ট্রের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়। দেশের কোনো বণিক গোষ্ঠী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যের প্রসার বা শিল্প স্থাপনের সাহায্যের জন্য রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতাতেই দেশের মধ্যে শিল্প বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এই নীতি মেনেই ইংল্যান্ডে নেভিগেশন আইন জারি হয়। ফ্রান্সে মন্ত্রী কোলবার্ট সরকারি অর্থ নিয়ন্ত্রণ নীতি জারি করেন। কোলবার্ট বলেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পদ এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে মার্কেন্টাইল মতবাদ অনুসরণ করা উচিত।

• ব্যক্তি মালিকানাকে স্বীকৃতিদান:-

মার্কেন্টাইল মতবাদ অনুযায়ী ব্যক্তি-মালিকানাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কোনো বণিক বা শিল্পপতি নিজের মূলধনকে বাণিজ্যিক পণ্য বা শিল্প পণ্য উৎপাদনে কাজে লাগাতে পারবে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত পুঁজির যোগান বাড়াবে, তেমনি অপরদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূলধনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের পূর্বে এই ধরনের ব্যক্তি মালিকানার উদ্ভব ও প্রসার ঘটে। উত্থান এবং প্রসারে সাহায্য করে। ব্যক্তিগত মূলধনের যোগান ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের প্রসারে সাহায্য করে।

মূল্যায়নঃমার্কেন্টাইলবাদ:- অর্থনীতিবিদ অ্যাডামস্মিথ তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘ওয়েলথ্ অফ নেশনস’-এ মার্কেন্টাইলবাদ কথাটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন। মার্কেন্টাইলবাদীদের ধারণায় পৃথিবীতে সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এই মতবাদের মূল কথা হল সংরক্ষণবাদী অর্থনীতি। এই মতবাদ মেনে বিদেশি পণ্য আমদানি কমানোর জন্য আমদানি শুল্ক বাড়ানো হত। এই মতবাদের মূল লক্ষ্য হল দেশ স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধশালী করে তোলার জন্য নিজ দেশের সোনা-রূপোর মতো মূল্যবাদ ধাতুর সঞ্চয় বৃদ্ধি করা।

∆ মার্কেন্টাইলবাদের বৈশিষ্ট্য:-

• মূল্যবান ধাতুর ওপর গুরুত্ব আরোপ:-

মার্কেন্টাইল মতবাদে সোনা, রুপোসহ মূল্যবান ধাতুর বহির্গমন বন্ধ করা হয়, সঞ্চয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ শতকে এই নীতি মেনে স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডসহ নৌশক্তিতে শক্তিশালী দেশগুলি নিজ নিজ উপনিবেশ থেকে সোনা, রূপাসহ মূল্যবান ধাতুগুলি লুঠ করে নিজ নিজ দেশে আনতে শুরু করে।

• আমদানি হ্রাস, রপ্তানি বৃদ্ধি:-

মার্কেন্টাইল মতবাদে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির কথা বলা হয়। এর কারণ হিসাবে বলা হয় যে, রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশে মূল্যবান ধাতুর আগমনের পরিমা বাড়ে, তেমনি অপরদিকে দেশে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদক ও বণিকরা নতুন নতুন বাণিজ্য উৎপাদনে উৎসাহ দেখায়। অধিক পণ্য রপ্তানি করা গেলে পণ্য উৎপাদক ও বিক্রেতাদের মুনাফা বৃদ্ধি পায়। অধিক মুনাফা বৃদ্ধি পেলে মূলধনের পরিমানও বাড়ে। ফলে অতিরিক্ত মূলধন নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনের কাজে লাগানো যায়।

• অবাধ বাণিজ্যের বিরোধিতা:-

মার্কেন্টাইল মতবাদে বলা হয় যে, অন্য দেশের স্বার্থ রোধ করে নিজে দেশের বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো উচিত। এই উদ্দেশ্যে অন্য দেশের বাণিজ্য নীতির উপর আমদানি শুল্ক চাপিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত এবং নিজের দেশের শিল্পোদ্যোগ ও শিল্পনীতিকে শুল্কমুক্ত করে ও ভর্তুকি দিয়ে উৎসাহ জাগানো উচিত। অবাধ বাণিজ্যের পরিণতি হিসাবে নৌশক্তিতে শক্তিশালী দেশগুলি নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জড়িয়ে পড়ে।

• শিল্প-বাণিজ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ:-

এই মতবাদে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যে রাষ্ট্রের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়। দেশের কোনো বণিক গোষ্ঠী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যের প্রসার বা শিল্প স্থাপনের সাহায্যের জন্য রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতাতেই দেশের মধ্যে শিল্প বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এই নীতি মেনেই ইংল্যান্ডে নেভিগেশন আইন জারি হয়। ফ্রান্সে মন্ত্রী কোলবার্ট সরকারি অর্থ নিয়ন্ত্রণ নীতি জারি করেন। কোলবার্ট বলেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পদ এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে মার্কেন্টাইল মতবাদ অনুসরণ করা উচিত।

• ব্যক্তি মালিকানাকে স্বীকৃতিদান:-

মার্কেন্টাইল মতবাদ অনুযায়ী ব্যক্তি-মালিকানাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কোনো বণিক বা শিল্পপতি নিজের মূলধনকে বাণিজ্যিক পণ্য বা শিল্প পণ্য উৎপাদনে কাজে লাগাতে পারবে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত পুঁজির যোগান বাড়াবে, তেমনি অপরদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূলধনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের পূর্বে এই ধরনের ব্যক্তি মালিকানার উদ্ভব ও প্রসার ঘটে। উত্থান এবং প্রসারে সাহায্য করে। ব্যক্তিগত মূলধনের যোগান ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের প্রসারে সাহায্য করে।

প্রভাব

মার্কেনটাইলবাদের কারণে উপনিবেশগুলোতে তীব্র শোষণ ও বঞ্চনা শুরু হয়। এই অর্থনৈতিক নীতির ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো লাভবান হলেও এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকার উপনিবেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। এই মতবাদ পরবর্তীতে Adam Smith-এর মতো অর্থনীতিবিদদের দ্বারা সমালোচিত হয়, যারা অবাধ বাণিজ্য এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের পক্ষে মত দেন।

মূল্যায়নঃ-

অ্যাডাম স্মিথ এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে “মার্কেন্টাইল সিস্টেম” বা “বাণিজ্যবাদ” নামে অভিহিত করেন এবং এর সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, মুক্ত বাণিজ্য এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি আরও ভালভাবে সম্ভব। 

সংরক্ষণবাদ বা বাণিজ্যবাদ এখন আর প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নয়, তবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। 

মার্কেনটাইল অর্থনীতিবাদ

Leave a Reply