উপনিবেশিকতাবাদ :- উপনিবেশবাদ হলো একটি দেশ অন্য দেশের সম্পূর্ণ বা আংশিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং তার সম্পদ ও অর্থনীতি থেকে লাভবান হওয়ার জন্য বসতি স্থাপনকারীদের দিয়ে দখল করে। উপনিবেশবাদকে সাম্রাজ্যবাদ থেকে আলাদা করা কঠিন হতে পারে কারণ উভয় অনুশীলনেই একটি দুর্বল অঞ্চলের উপর একটি প্রভাবশালী দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জড়িত।
প্রাচীনকাল থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত, শক্তিশালী দেশগুলি উপনিবেশবাদের মাধ্যমে তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রকাশ্যে চেষ্টা চালিয়েছে। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর , ইউরোপীয় শক্তিগুলি প্রায় প্রতিটি মহাদেশের দেশগুলিকে উপনিবেশ করেছিল। যদিও উপনিবেশবাদ এখন আর তেমন আক্রমণাত্মকভাবে অনুশীলন করা হয় না, তবুও প্রমাণ রয়েছে যে এটি একটি শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
এটি সাধারণত একটি শক্তিশালী দেশ কর্তৃক দুর্বল দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে প্রভাবশালী জাতি বসতি স্থাপন করে এবং তাদের নিয়ম-কানুন, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ চাপিয়ে দেয়।

Table of Contents
উপনিবেশিকতাবাদ
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য: ব্রিটিশরা ভারত, আফ্রিকা, এবং অন্যান্য অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল এবং তাদের উপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
ফরাসি সাম্রাজ্য: ফ্রান্স উত্তর আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।
স্প্যানিশ সাম্রাজ্য: স্পেন মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।
আরো জানুন – History 2025 PGHI-V suggetion
উপনিবেশিকতাবাদ বলতে কি বোঝো ? তৃতীয় বিশ্বের উপনিবেশিকতাবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রকৃতি আলোচনা কর।

☐ মূল বিষয়: উপনিবেশবাদ
- উপনিবেশবাদ হলো একটি দেশের দ্বারা একটি নির্ভরশীল দেশ, ভূখণ্ড বা জনগণের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের প্রক্রিয়া।
- উপনিবেশবাদ তখনই ঘটে যখন এক দেশের মানুষ অন্য দেশে বসতি স্থাপন করে তার জনগণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণ করে।
- ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি সাধারণত তাদের উপনিবেশযুক্ত দেশগুলির আদিবাসীদের উপর তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
- উপনিবেশবাদ সাম্রাজ্যবাদের অনুরূপ, অন্য দেশ বা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শক্তি ও প্রভাব ব্যবহার করার প্রক্রিয়া।
- ১৯১৪ সালের মধ্যে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ইউরোপীয়দের দ্বারা উপনিবেশিত হয়ে পড়েছিল।
☐ মূলত, উপনিবেশবাদ হল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের একটি কাজ যার মধ্যে একটি বিদেশী শক্তির বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা একটি দেশ এবং তার জনগণের নিয়ন্ত্রণ জড়িত । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, উপনিবেশ স্থাপনকারী দেশগুলির লক্ষ্য হল তাদের উপনিবেশ স্থাপন করা দেশগুলির মানবিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ শোষণ করে মুনাফা অর্জন করা। এই প্রক্রিয়ায়, উপনিবেশ স্থাপনকারীরা – কখনও কখনও জোরপূর্বক – আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর তাদের ধর্ম , ভাষা , সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক অনুশীলন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ।
☐ তৃতীয় বিশ্বের উপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনের প্রকৃতি ছিল বহুমাত্রিক ও জটিল। এটি সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়বিচারের জন্য একটি সম্মিলিত সংগ্রাম ছিল। এই আন্দোলনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন উপাদান জড়িত ছিল এবং এর প্রকৃতি স্থান ও কালভেদে ভিন্ন ছিল।
☐ তৃতীয় বিশ্বের উপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো: –

উপনিবেশবাদ
১. স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা:
এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি এবং নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করা। এর মধ্যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২. জাতীয়তাবাদী চেতনা:
উপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনগুলি সাধারণত জাতীয়তাবাদী চেতনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাষার পুনরুজ্জীবন এবং একটি জাতিরাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা ছিল এই আন্দোলনের চালিকা শক্তি।
৩. শ্রেণী ও জাতিগত বৈষম্যের বিরোধিতা:
অনেক ক্ষেত্রে, উপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনগুলি স্থানীয় জনগণের উপর চাপানো শ্রেণী ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিল।
৪. অহিংস ও সশস্ত্র প্রতিরোধ:
এই আন্দোলনে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের পাশাপাশি সশস্ত্র সংগ্রামেরও আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে, গণ-অসহযোগিতা, অসহযোগিতা ও আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা করা হয়েছে। আবার, কোথাও কোথাও গেরিলা যুদ্ধ ও সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।

৫. আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সংহতি:
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মধ্যে সংহতি ও সমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা করে। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মতো উদ্যোগগুলি এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬. সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবন:
উপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনগুলি প্রায়শই স্থানীয় সংস্কৃতি, শিল্পকলা, সাহিত্য ও ভাষার পুনরুজ্জীবনের উপর জোর দেয়।
৭. বিভিন্ন মতাদর্শের প্রভাব:
এই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মতাদর্শের প্রভাব ছিল। কিছু ক্ষেত্রে, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, এবং গান্ধীবাদ সহ বিভিন্ন মতাদর্শ উপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনগুলি কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ছিল। এই আন্দোলনগুলি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে এবং তাদের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।