You are currently viewing অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান বর্ণনা কর।

অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান বর্ণনা কর।

মোগল সাম্রাজ্যের ভাঙ্গনের কালে মারাঠারা দুর্দমনীয় হয়ে ওঠে এবং উত্তর ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারে প্রয়াসী হয়। এ সময় উত্তর ভারতের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মারাঠা আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়-এমনকী দিল্লির সম্রাটও তাদের হাতের পুতুলে পরিণত হন। মারাঠাদের এই কৃতিত্বের মূলে ছিল ‘পেশোয়া’ বা মারাঠা রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীদের প্রয়াস। অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান

১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে শিবাজির মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র শম্ভুজি মারাঠা সিংহাসনে বসেন। পিতার ন্যায় সাহসী ও সমরকুশলী হলেও অন্যান্য প্রতিভা তাঁর ছিল না। ঔরঙ্গজেবের বিদ্রোহী পুত্র আকবরকে আশ্রয়-দান করে তিনি সম্রাটের বিরাগভাজন হন। ঔরঙ্গজেব মারাঠা রাজ্য আক্রমণ করলে মোগল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি নিহত হন এবং তাঁর পুত্র শাহু-কে বন্দি হয়।

শত্রুজি-র পর তাঁর ভাই রাজারাম এবং রাজারামের পর তাঁর বিধবা স্ত্রী তারাবাঈ শিশুপুত্র তৃতীয় শিবাজি-কে সিংহাসনে বসিয়ে মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মারাঠাদের মধ্যে গৃহবিবাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শম্ভুজির বন্দিপুত্র শাহকে মুক্তি দেওয়া হয়। অবশেষে  বালাজি বিশ্বনাথ নামে জনৈক কূটনীতিজ্ঞ ব্রাহ্মণের সহায়তায় শাহ তাঁর প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে মারাঠা সিংহাসন দখল করেন। বালাজি বিশ্বনাথ তাঁর ‘পেশোয়া’ বা প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন (১৬ই নভেম্বর, ১৭১৩ খ্রিঃ)।

অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান

ক) বালাজি বিশ্বনাথ (১৭১৩-২০ খ্রিঃ):-

বংশানুক্রমিক ‘পেশোয়াতন্ত্রের’ প্রতিষ্ঠাতা বালাজি বিশ্বনাথের জন্ম চিৎপাবন বংশীয় এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে। তিনি রাজস্ব ও সামরিক-দুই বিভাগেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর বুদ্ধি, বিচক্ষণতা ও কর্মদক্ষতায় আকৃষ্ট হয়ে শাহু তাঁকে ‘পেশোয়া’ পদে নিযুক্ত করেন।

                 মারাঠা জাতির এক সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি ‘পেশোয়া’র কর্মভার গ্রহণ করেন। অযোগ্য শাহ রাজ্যের সকল দায়িত্ব পেশোয়ার হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন। গৃহবিবাদের ফলে মারাঠা সর্দাররা সাতারা ও কোলাপুর-দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত। এই সর্দারদের নিজ দলভুক্ত করে রাজ্যের শক্তিবৃদ্ধি এবং ঐক্যসাধন অপরিহার্য ছিল। বালাজি বিশ্বনাথ উত্তর ভারতে মারাঠা আধিপত্য স্থাপনে উৎসাহী হন, কিন্তু এ ব্যাপারেও তাঁর দু’টি প্রতিবন্ধকতা ছিল-দাক্ষিণাত্যে মারাঠা প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিবন্ধক কোলাপুরি শাখার তারাবাঈ, আর উত্তর ভারতে শাহুর মোগল-প্রীতি।

                 দক্ষ প্রশাসক ও সুচতুর কূটনীতিজ্ঞ বালাজি বিশ্বনাথ বিদ্রোহী মারাঠা দলপতিদের দমন করে অচিরেই মারাঠা রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর উদ্যোগে লোনাবেলার সন্ধি (১৭১৪ খ্রিঃ) দ্বারা পশ্চিম উপকূলের শাসক ও মারাঠা নৌবাহিনীর প্রধান কাহ্নোজি আংরে-র সঙ্গে শাহর মিত্রতা স্থাপিত হয়। কাহ্নোজি আংরে পূর্বে তারাবাঈ-এর সমর্থনে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু পেশোয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ নীতির ফলে তিনি মিত্রে পরিণত হন। তিনি মারাঠা সর্দারদের মধ্যে ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ভাগ করে দিয়ে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করেন।

অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান তিনি ‘চৌথ’ ও ‘সরদেশমুখি’ আদায়ের জন্য এক একটি এলাকা এক একজন মারাঠা সর্দারদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে তাদের আনুগত্য অর্জন করেন। তিনি পুরোনো ‘অষ্টপ্রধান’ ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি মারাঠা শক্তিসঙ্ঘ গড়ে তোলেন। তিনি। রাজস্ব বিভাগে নানা সংস্কার প্রবর্তন করে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটান এবং মহীশূর ও নিজামের বিরুদ্ধে মারাঠা রাষ্ট্রের শক্তি সংহত করেন।

অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান

                 সম্রাটের বিরুদ্ধে আসন্ন সংঘর্ষে মারাঠাদের সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যে ১৭১৪ খ্রিস্টাব্দে মোগল সেনাপতি সৈয়দ হোসেন আলি পেশোয়া-র সঙ্গে এক গোপন সন্ধি স্বাক্ষর করেন। এই সন্ধির ফলে দাক্ষিণাত্যের ওপর থেকে মোগল অধিকার কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়, মারাঠা অধিপতি শাহর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তিনি মহারাষ্ট্রের আইনসম্মত শাসক হিসেবে স্বীকৃতি পান।

মোগল বাদশাহের ব্যয়ে মারাঠারা ১৫,০০০ অশ্বারোহীর অধিপতি হল। এই বাহিনী মোগলদের সাহায্যের জন্য গঠিত হয়, অর্থাৎ বাদশাহ মারাঠাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই সন্ধির শর্তানুসারে মোগল কর্তৃত্ব স্বীকার করে বালাজি বিশ্বনাথ শিবাজির স্বাধীনতার আদর্শকে বিসর্জন দিয়েছিলেন ঠিকই, তবুও এ কথা মানতে হবে যে, মোগল কর্তৃত্বের স্বীকৃতি ছিল ‘নামেমাত্র’ ‘নামেমাত্র’। স্যার রিচার্ড টেম্পল ১৭১৪ খ্রিস্টাব্দের এই সন্ধিকে মারাঠা সাম্রাজ্যের উত্থানের ‘ম্যাগনা কার্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

খ) প্রথম বাজিরাও (১৭২০-৪০ খ্রিঃ):-

১৭২০ খ্রিস্টাব্দে পেশোয়া বালাজি বিশ্বনাথের মৃত্যু হলে তাঁর উনিশ বছর বয়স্ক পুত্র প্রথম বাজিরাও ‘পেশোয়া’ পদ লাভ করেন। বহু গুণের অধিকারী প্রথম বাজিরাও ছিলেন সমরকুশল সাহসী যোদ্ধা, দক্ষ প্রশাসক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতি-বিদ। ক্রীড়া, অশ্বারোহণ ও সংস্কৃত শাস্ত্রে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। গ্রান্ট ডাক তাঁকে ‘মারাঠা জাতির নেপোলিয়ন’ বলে অভিহিত করেছেন।

অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান তাঁর মতে, প্রথম বাজিরাও-এর মস্তিষ্ক ছিল পরিকল্পনার জন্মভূমি এবং তাঁর দুই বাহু ছিল পরিকল্পনা কার্যকর করার অস্ত্র। তাঁর সম্বন্ধে বলা হয় যে, শিবাজির পরেই তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ গেরিলা যুদ্ধবিশারদ। তাঁর আমলেই মারাঠারা সর্বপ্রথম সর্বভারতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।

                এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য হিন্দু রাজন্যবর্গের সাহায্য লাভের আশায় তিনি ‘হিন্দু-পাদ পাদশাহি’ বা মারাঠা নেতৃত্বে হিন্দু সাম্রাজ্য স্থাপনের আদর্শ ঘোষণা করেন। অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান বিভিন্ন রাজপুত রাজা ও জমিদারেরা তাঁর প্রতি সমর্থন জানায়। প্রথমে তিনি গৃহশত্রু সেনাপতি ত্রিম্বকরাও ধাবাড়ে ও কোলাপুর শাখার শত্রুজি-কে দমন করে দাক্ষিণাত্যে নিজাম-এর বিরুদ্ধে অগ্রসর হন।

পরাজিত নিজামের সঙ্গে এক গোপন চুক্তি দ্বারা স্থির হয় যে, দাক্ষিণাত্যের মোগল সুবাগুলি থেকে ‘চৌথ’ ও ‘সরদেশমুখি’ আদায় করা ব্যতীত মারাঠারা সেখানে আর কোনও উপদ্রব করবে না। এর বিনিময়ে মারাঠাদের উত্তর ভারত অভিযানের সময় নিজাম নিরপেক্ষ থাকবেন।

১৭২৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি মালব আক্রমণ করলে হিন্দু জমিদারগণ তাঁকে নানাভাবে সাহায্য করেন। এর অল্পকাল পরে সমৃদ্ধশালী গুজরাট রাজ্যে এক গৃহবিবাদের সুযোগে বাজিরাও অতি সহজেই সেখানে মারাঠা আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করেন। বুন্দেলখণ্ড-র অধিপতি ছত্রশালের সঙ্গে মোগলদের সংঘর্ষ চলছিল।

                ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে বাজিরাও বুন্দেলখণ্ড আক্রমণ করে ছত্রশালের পক্ষে মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং মোগল শাসনকর্তা মহম্মদ শাহকে বিতাড়িত করেন। ‘হিন্দু-পাদ-পাদশাহি’-র আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছত্রশাল প্রকাশ্য দরবারে বাজিরাও-কে সম্বর্ধনা জানান, তাঁকে ‘চৌখ’ দানে সম্মত হন এবং রাজ্যের একাংশ তাঁকে সমর্পণ করেন। অম্বর-রাজ দ্বিতীয় জয়সিংহের সঙ্গে তাঁর প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৭৩৭খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লির উপকণ্ঠে হাজির হন। ভীত সম্রাট মহম্মদ শাহ মারাঠাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় দাক্ষিণাত্যে নিজাম-উল-মূলক-কে সংবাদ পাঠান।

অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান ভূপালের যুদ্ধ (১৭৩৮ খ্রিঃ)-তে পরাজিত হয়ে নিজাম সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য হন। সন্ধির শর্ত অনুসারে নিজাম যুদ্ধের ব্যয় বাবদ পেশোয়াকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন এবং নর্মদা থেকে চম্বল পর্যন্ত সমগ্র ভূভাগে পেশোয়ার কর্তৃত্ব স্বীকার করে নেন। এইভাবে উত্তর ভারতে প্রথম স্বাধীন মারাঠা রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ডঃ জি. এস. সরদেশাই (G. S. Sardesai) বলেন যে, ভূপালের যুদ্ধ হল “প্রথম বাজিরাও-এর শেষ ও মহান জয়” (“The last and highest triumph of Baji Rao.”)।

) বালাজি বাজিরাও (১৭৪০-৬১ খ্রিঃ):-

প্রথম বাজিরাও-এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র বালাজি বাজিরাও মাত্র আঠারো বছর বয়সে পেশোয়া পদ লাভ করেন। পিতার মহৎ গুণাবলী তাঁর ছিল না। তিনি কিছুটা বিলাসী ও আরামপ্রিয় ছিলেন। পিতার সামরিক প্রতিভাও তাঁর ছিল না।

তিনি নিজে যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারতেন না। যুদ্ধকালে তিনি অসহায়ভাবে সামন্ত প্রভুদের ওপর নির্ভর করতেন। রাজা শাহুর জীবদ্দশাতেই তিনি রাজ্যের রাজধানী সাতারা থেকে পুণাতে স্থানান্তরিত করেন। এর ফলে শাসনব্যবস্থায় তাঁব কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পায়। ইতিমধ্যে পেশোয়ার পদ বংশানুক্রমিকই হয়ে গিয়েছিল।

অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বে শাহ মারাঠা রাজ্যের সকল কর্তৃত্ব পেশোয়াকেই অর্পণ করে যান। এর ফলে বংশানুক্রমিক পেশোয়া পদ আইনগত বৈধতা পায়। অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান

                 বালাজি বাজিরাও-এর আমলে মারাঠারা মহীশূর-এর কিছু অংশ ও কর্ণাটক দখল কছে। অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে উদগিরের যুদ্ধে মারাঠা বাহিনী নিজাম-কে পরাজিত করে এবং নিজাম বিজাপুর, দৌলতাবাদ ও আসিরগড় প্রভৃতি স্থান মারাঠাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

মারাঠা সেনাপতি রঘুজি ভোঁসলে বারংবার বাংলা আক্রমণ করেন (১৭৪২-৫১ খ্রিঃ) এবং শেষ পর্যন্ত এক সন্ধির মাধ্যমে (১৭৫১ খ্রিঃ) বাংলার নবাব আলিবর্দি খাঁ মারাঠাদের উড়িষ্যা ছেড়ে দিতে এবং তাদের বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা চৌখ দেবার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হন।

মারাঠা সেনাদল আফগানিস্তানের আমির আহম্মদ শাহ আবদালি-র প্রতিনিধি নাজিবউদ্দৌলাকে বিতাড়িত করে দিল্লি দখল করে (১৭৫৭ খ্রিঃ) এবং মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীরকে সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করে। মোগল সম্রাট মারাঠাদের হাতের পুতুলে পরিণত হন। অতঃপর মারাঠারা পাঞ্জাবের দিকে অগ্রসর হয় এবং লাহোর (১৭৫৮ খ্রিঃ) ও সিন্ধুনদের তীরে দুর্ভেদ্য আটক দখল করে। অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান

                  মারাঠারা পাঞ্জাব দখল করলে আহম্মদ শাহ আবদালি পুনরায় ভারত আক্রমণ করেন এবং পাঞ্জাব দখল করে দিল্লির দিকে অগ্রসর হন। পেশোয়ার জ্ঞাতিভ্রাতা সদাশিব রাও এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র বিশ্বাস রাও-এর নেতৃত্বে মারাঠা  বাহিনী আবদালিকে বাধা দিতে অগ্রসর হয়। ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জানুয়ারি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠারা পরাজিত হয়, সদাশিব রাও ও বিশ্বাস রাও ছাড়াও ২২ জন প্রথম শ্রেণীর সেনাপতি এবং ২০ হাজার মারাঠা সৈন্য এই যুদ্ধে নিহত হয়। মারাঠাদের বহু ধন-রত্ন, উট, হাতি ও ছোঁড়া আহম্মদ শাহ আবদালি দখল করেন। পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে পেশোয়া বালাজি বাজিরাও ভগ্ন হৃদয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (২৩শে জুন, ১৭৬১ খ্রিঃ)।

                  পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে সব ঐতিহাসিক একমত নন। ঐতিহাসিক এলফিনস্টোন-এর মতে, এই যুদ্ধে মারাঠাদের বিপর্যয় ছিল সর্বাত্মক। ঐতিহাসিক পার্সিভ্যাল স্পিয়ার বলেন যে, পানিপথের যুদ্ধ মারাঠা জাতির পক্ষে কেবলমাত্র সামরিক পরাজয় ছিল না, মারাঠা জাতির স্বার্থের পক্ষে এই যুদ্ধ ছিল বিপর্যয়কর।

জি. এস. সরদেশাই, বিশ্বনাথ রাজওয়াদে প্রমুখ মারাঠি ঐতিহাসিকগণ মনে করেন যে, এই যুদ্ধকে মারাঠাদের ‘জাতীয় বিপর্যয়’ বলা যায় না, কারণ আহম্মদ শাহ আবদালি যুদ্ধে জয়লাভ করলেও দিল্লির ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হয় নি, পরবর্তী পেশোয়া প্রথম মাধব রাও (১৭৬১-৭২ খ্রিঃ)-এর নেতৃত্বে মারাঠাদের লুপ্ত গৌরব বহুলাংশে পুনরুদ্ধার হয় এবং এই সময় মারাঠা শক্তি উত্তর ভারতে আবার দুর্বার হয়ে ওঠে।

তাঁরা বলেন যে, এই যুদ্ধের কিছুকাল পরেই আবদালি মারাঠাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সন্ধি করতে বাধ্য হন, ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে মারাঠাদের সাহায্যেই মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ্ আলম দিল্লিতে ক্ষমতায় বসেন এবং ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে মহাদাজি সিন্ধিয়া দিল্লি দখল করেন মারাঠাদের হাতে মহীশূরের হায়দার আলি এবং হায়দ্রাবাদের নিজাম একাধিকবার পরাজিত হন।

১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই মারাঠা আধিপত্যের অবসান ঘটে। জি. এস. সরদেশাই-এর মতে পানিপথের যুদ্ধে প্রচুর লোকক্ষয় ব্যতীত মারাঠাদের বিশেষ ক্ষতি হয় নি। তাঁর মতে, পানিপথের মারাঠা বিপর্যয় লোকক্ষয়কারী প্রাকৃতিক বিপর্যয় অপেক্ষা বেশি কিছু নয়। তাই তাঁর মতে এই যুদ্ধে মারাঠাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয় নি (“It decided nothing.”)। গ্রান্ট ডাফ-এর মতে, পানিপথের যুদ্ধ অপেক্ষা মাধব রাও-এর অকালমৃত্যু মারাঠাদের পক্ষে অধিকতর ক্ষতিকর ছিল। অষ্টাদশ শতকে মারাঠা শক্তির উত্থান

Leave a Reply