স্বাধীনতার অধিকার হল একটি মৌলিক মানবাধিকার যা ভারতীয় সংবিধানের ১৯ থেকে ২২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত এবং গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এটি নাগরিকদের বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া, সংগঠন তৈরি করা, ভারতের সর্বত্র অবাধে চলাফেরা করা, যেকোনো স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপন করা, এবং যেকোনো পেশা বা জীবিকা গ্রহণ করার অধিকার নিশ্চিত করে।
Table of Contents
READ MORE – নেহেরুর শাসনা দিনে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র
ভারতীয় সংবিধানে সংরক্ষিত স্বাধীনতার অধিকার আলোচনা করো।

উত্তর: –
স্বাধীনতা ব্যক্তি জীবনের অমূল্য সম্পদ। কবির ভাষায় বলা যায়,-“স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?” স্বাধীনতার অর্থ হল, এমন এক পরিবেশ যা মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে। গণতন্ত্রের লক্ষ্য হল, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো। আর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে গেলে পরিবেশ তথা স্বাধীনতার প্রয়োজন। সুতরাং স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র সফল হতে পারে না। সেই কারণে স্বাধীনতার অধিকার মৌলিক অধিকারের মধ্যে সব থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। পাইলীর (Pylee) ভাষায়,- “Personal liberty is most fundamental of fundament rights.” অর্থাৎ ব্যক্তি স্বাধীনতা হল, মৌলিক অধিকারগুলির মধ্যে সব থেকে মৌলিক। ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। এই গণতন্ত্রকে সফল করতে সংবিধানের ১৯ থেকে ২২ নং ধারায় স্বাধীনতার অধিকার সংযোজিত হয়েছে।
॥ ১৯ নং ধারা ॥
১৯৭৮ সালের পূর্বে ১৯ নং ধারায় ৭টি স্বাধীনতার অধিকার ছিল। ১৯৭৮ সালে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন, দখল ও হস্তান্তরের স্বাধীনতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই বর্তমানে ১৯ নং ধারায় ৬টি স্বাধীনতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে:
(ক) বাস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা। (খ) শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রভাবে সমবেত হবার স্বাধীনতা।
(গ) সমিতি ও সংঘ গঠনের অধিকার। (ঘ) ভারতের যে-কোনো স্থানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার।
(ঙ) ভারতের যে-কোনো স্থানে বসবাস করার অধিকার। (চ) যে-কোনো বৃত্তি অবলম্বন বা যে-কোনো পেশা, ব্যাবসা বা বাণিজ্য করার

অধিকারের গুরুত্ব :-
উপরিউক্ত অধিকারগুলি ব্যক্তি জীবনে একান্ত প্রয়োজন। মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রকে সফল করবে। এই স্বাধীনতার মধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও আছে। ভাবের আদান প্রদান ও জনমত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। সমিতি গঠনের অধিকারের মাধ্যমে জনগণ সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলার ক্ষেত্রে সংঘ বা সমিতি গঠন করতে পারবে। এমনকি রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংঘ গঠন প্রভৃতিও এই অধিকারের মধ্যে আছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস ও যাতায়াতের অধিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বাধা ও বৈষম্য দূর করে জাতীয় সংহতি রক্ষা করবে। পেশা, বৃত্তি ও ব্যাবসাবাণিজ্যের স্বাধীনতা সমাজকে গতিশীল করে তুলবে।
অধিকারের সীমাবদ্ধতা ॥
স্বাধীনতার অধিকার অবাধ হতে পারে না। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে এর উপর কিছু বাধানিষেধ থাকা প্রয়োজন। তাই সংবিধান রচয়িতারা ১৯ নং ধারায় উল্লিখিত স্বাধীনতার অধিকারের উপর কয়েকটি বাধানিষেধের কথা বলে গেছেন:
প্রথমত:
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, সংহতি ও জনশৃঙ্খলার কারণে রাষ্ট্র বাক্-স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমবেত হবার স্বাধীনতা বা সমিতি গঠনের অধিকারের উপর যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপ করতে পারবে।
দ্বিতীয়ত:
স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও বসবাস করার অধিকার স্বীকৃত হলেও জনস্বার্থে সরকার বাধানিষেধ আরোপ করতে পারে। যেমন, ব্যাধিগ্রস্ত লোকদের যেখানে-সেখানে চলাফেরা নিষিদ্ধ হতে পারে। সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকার, জনসারারণের। প্রবেশের অধিকার সীমাবদ্ধ করতে পারে ক্যারাভান? ১০।।শন) কঙ্গীতাগং ভাঙ্গান্ত। কারীটিরও
তৃতীয়তঃ
বৃত্তি বা পেশার ক্ষেত্রে সরকার বাধানিষেধ আরোপ, করতে পারে। যেমন, উপযুক্ত শিক্ষা না নিয়ে কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা উকিল, ব্যারিস্টার হতে পারবে না। এখানে বলা প্রয়োজন,-১৯ নং ধারায় উল্লিখিত স্বাধীনতার অধিকারগুলি যেমন অবাধ নয়, তেমনি বাধানিষেধগুলি স্বেচ্ছাচারমূলক হবে না। বাধানিষেধগুলি যুক্তিসংগত হওয়া চাই। যুক্তিসংগত কিনা তার বিচার আদালত করতে পারবে। অর্থাৎ বিধিনিষেধগুলি সামাজিক লক্ষ্যের প্রয়োজনে ন্যায়সংগত হওয়া চাই। এ. কে. গোপালন বনাম মাদ্রাজ রাজ্য রাজ্য মামলায় (১৯৫০) আদালত এই রায় দিয়েছে।

২০ নং ধারা :-
ভাদাটার চাচত ভ্যাচালক চ্যান্ডঙ্কাচনি ও শিল্পীগীশ (৮) এই ধারায় বলা হয়েছে, যে সময়ে কোনো অপরাধ ঘটে, সেই সময়ে প্রচলিত আইনের দ্বারা কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যাবে। এ ছাড়া এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, -কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাই পুলিশ যদি কাউকে ভয় দেখিয়ে জোর করে সাক্ষ্য দিতে বলে আদালত তা গ্রহণ করবে না।
২১ নং ধারা :-
এই ধারায় বলা হয়েছে, আইনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি (Procedure established by law) ছাড়া কাউকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। “আইনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি” বলতে, বোঝায়, আইনসভা দ্বারা বিধিসম্মতভাবে তৈরি আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতি। ফলে শাসনবিভাগ যদি কোনো ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতার উপর বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করে, তখন আদালত এই ধারা অনুসারে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এমনকি জরুরি অবস্থাতেও এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। এইখানে উল্লেখ করা যায়, গাংএকে গোপালন বনাম মাদ্রাজ মামলায় (১৯৫০) সুপ্রিমকোর্ট এই অভিমত প্রকাশ করেছে যে আইনটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হয়েছে কিনা আদালত শুধু তাই দেখবে। কিন্তু আইনটি নীতিসম্মত কিনা তা দেখার ক্ষমতা আদালতের নেই।
২২ নং ধারায় :-
২২ নং ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হলে, তাকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করতে হবে। আটক ব্যক্তিত্বে, তার পছন্দমতো আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। তবে যদি কোনো বাক্তি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে এবং নিরর্তনমূলক আটক আইনে (Preventive Detention Act) তাকে ধরা হয়, তখন তার ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। নিবর্তনমূলক আটক বলতে বোঝায়, কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ করেছে বা করতে পারে, এই সন্দেহের ভিত্তিতে কোলো, ব্যক্তির, আটককে রোঝায়।
এখানে, উল্লেখ করা যায়, ১৯৫০ সালে প্রথম নিবর্তনমূলক আটক আইন (R.D.Act) তৈরি হয়। এই আইনটি ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। ১৯৭১ সালে এই ধরনের আর একটি জাইন চালু হয়। অর নাম “আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, আইন” (Maintenance of Internal Security Act বা MISA)। এই আইনে সর্বাধিক এক বছর, আটক রাখার ব্যবসথা ছিল।
১৯৮০ সালে এই আইনের রকমফের করে “জাতীয় নিরাপত্তা আইন” (National Security Act বা NSA) তৈরি হয়। এই আইনে বিনা বিচারে আটক রাখার মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ২ বছর করা হয়। ১৯৮১ সালে তৈরি হয় অত্যাবশ্যক সুতায় সন্ত্যহ জাগরণ চাল রাখা আইন (ESMA)। উগ্রপন্থীদের দমন করতে তৈরি হয়েছে “টাডা আইন” (Terrorist And Disruptive Activities বা TADA)। এই আইনের পরিবর্তে POTA (Prevention of Terrorist Activities) আইন তৈরি করা হয়। বর্তমানে POTA আইনটি বাতিল করা হয়েছেষ্ট্যকলার শেলাশ ওয়ানন শ্রীও। যেন চ্যাদক জাগান সেচ্যাপতা নাজকাচ। যান চাকলার নভ্যানত্য
সমালোচনা মন মানসম্ভাও। ঘোড়াৎ দোত নাতীগত ভীটি চেলার ফোকাস লেগাশশু, চাক। দি স্বাধীনতার অধিকার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার। তবে এই অধিকার ভোগ করা বাস্তবে কতটুকু সম্ভব হবে সে সম্পর্কে সমালোচকেরা যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কারণ চাচীও প্যারী চায়গাশ ভ্যিান শ্রীব্য। দিনরাচ্যক লগাত মারজঃ প্রত্যাগি মাশাগাণ্ড ভ্যাকে

প্রথমত:
MISA, NSA, TADA প্রভৃতি নিবর্তনমূলক আটক আইন তৈরি করে স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। এইসব আইনগুলি গণতন্ত্রসম্মত নয়। তাই সমালোচকেরা বলেছেন, সংবিধান যেমন এক হাতে মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে, তেমনি অন্য হাতে সেগুলি কেড়ে নেবার ব্যবস্থা করেছে। ক) (১৫) ১৯০ ১০ জ্যাকের দ্যোতীত জাগেও (৬) দ্বিতীয়ত: গণতন্ত্রে বিরোধী দলের গুরুত্ব আছে। কিন্তু এইসব আটক আইন বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে গণতন্ত্রের ভিতকে আঘাত করতে পারে। ভীমকভী
তৃতীয়ত:
শ্রীদুর্গাদাস বসু বলেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশে সরকার শুধুমাত্র জরুরি অবস্থায় এইসব ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ভারতে যে-কোনো সময় এগুলিকে ব্যবহার করা যায়।”
*চতুর্থতঃ
উদারনৈতিক গণতন্ত্রে আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত উদারনৈতিক গণতন্ত্রের দেশ বলে আইনের অনুশাসন নীতি স্বীকার স্বীকার করে নিয়েছে। ছে। অধ্যাপক অধ্যাপক। D.N.Banerjee বলেছেন, “নিবর্তনমূলক আটক আইন, আইনের অনুশাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
॥ মূল্যায়ন ॥
সমালোচিত হলেও অনেকে মনে করেন, এই অধিকারের উপর সীমাবদ্ধতার প্রয়োজন আছে। কারণ, ভারতের চারিদিকে শত্রু। তার জাতীয় সংহতি আজ বিপন্ন। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আমরা জর্জরিত। বিচ্ছিন্নবাদী উগ্রপন্থীরা অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছে। এমনকি সংবিধান রচনার সময়ে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা ও আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল। এই অবস্থার মোকাবিলার জন্যে দেশের ও জাতির স্বার্থে সরকারের হাতে বিশেষ ক্ষমতা থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। বর্তমানেও তার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি।
বরং এর প্রয়োজনীয়তা বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। কারণ পাকিস্তানি গুপ্তচরেরা ভারতে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। উভয় দেশের শীর্ষ বৈঠকেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সার্বভৌমিকতা আজ বিপন্ন। এই অবস্থায় অবাধ স্বাধীনতার অধিকার থাকা কাম্য নয়। তবে সেই ক্ষমতার যাতে অপপ্রয়োগ না হয়, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য দিতে হবে। সরকারও এবিষয়ে সজাগ আছে। অধ্যাপক জোহারী (Johari) বলেছেন, সরকার সংযমের সঙ্গে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।