বাচ্য – VOICE

বাচ্য – VOICE – বাক্যের মধ্যে কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়াপদের প্রাধান্য বোঝাতে বাক্যের প্রকাশ ভঙ্গিমার যে রূপভেদ দেখা যায় তাকে বলে বাচ্য।

উদাহরন – আমরা নিয়মিত খেলা করি (কর্তৃ বাচ্য)
আমাদের দ্বারা নিয়মিত খেলা করা হয় (কর্মবাচ্য)

Table of Contents

READ MORE – প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় সাহিত্যিক উপাদান

বাচ্য – VOICE

শ্রেণীবিভাগ:-

ক.কর্তৃবাচ্য খ.কর্ম বাচ্য গ.ভাববাচ্য ঘ.কর্মকর্তৃ বাচ্য

ক. কর্তৃবাচ্য:-‌

যে বাচ্যে কর্তাই প্রধান এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুগামী তাকে কর্তৃ বাচ্য বলে।

বৈশিষ্ট্য:-

১. কর্তৃ বাচ্যে কর্তার প্রাধান্য থাকে।
২. ক্রিয়াপদ কর্তার অনুগামী হয়।
৩. কর্তা প্রথমা বিভক্তির হয়।
৪. কর্তৃ বাচ্যে যে কোন পুরুষ (উত্তম, মধ্যম, নাম) হতে পারে।

*প্রথমা বিভক্তি:

যে বিভক্তি শব্দকে বিশেষত বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করে এবং সাধারণত কর্তৃকারকে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রথমা বিভক্তি বলে।
যেমন- শূন্য,অ,এ,য়,রা, তে, এরা, গুলো,গন ইত্যাদি।

পুরুষের প্রকারভেদ:


১. উত্তম পুরুষ:– যে ক্ষেত্রে বক্তা নিজের কথা বলে।
উদাহরণ: আমি আজ স্কুলে যাব।
আমরা খেলতে ভালোবাসি।


২. মধ্যম পুরুষ:– যে ক্ষেত্রে বক্তা শ্রোতার সাথে কথা বলে (তুমি/তোমরা, আপনি/আপনারা)।
উদাহরণ: তুমি কেমন আছো?
তোমরা খেলতে যাও।
আপনি আজ আসবেন তো?

৩. নাম পুরুষ:- যে ক্ষেত্রে বক্তা অন্য কারো বা কোনো বস্তুর কথা বলে (সে/তারা, তিনি, ওরা, এটি, ওটা ইত্যাদি)।
উদাহরণ: সে খুব ভালো গান গায়।
তারা খেলছে।
এটি আমার বই।

* সহজে মনে রাখার উপায়-


উত্তম পুরুষ → আমি/আমরা
মধ্যম পুরুষ → তুমি/আপনি/তোমরা/আপনারা
নাম পুরুষ → সে/তারা/তিনি/এটি/ওরা ইত্যাদি

কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ:


(i)তিনি বিধান দিলেন।
(ii) পন্ডিতে বলে।
(iii) ট্রেনটি এখনই ছাড়বে।
(iv) আকাশে চাঁদ উঠেছে।

অতিরিক্ত সংযোগ

কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সহকর্মক হলে কার্য ‘কে’ বিভক্তি হয়। সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক না হলে কর্মবাচ্যের বাক্য হয় না।

খ. কর্ম বাচ্য-

যে বাচ্যে কর্মই প্রধান এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুগামী তাকে কর্মবাচ্য বলে।

বৈশিষ্ট্য:-


১. কর্মবাচ্যে কর্মই প্রাধান্য পায়।
২. ক্রিয়াপদ কর্মের অনুগামী।
৩. কর্তার সঙ্গে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি/অনুসর্গ যোগ হয়।
৪. অকর্মক ক্রিয়ায় এই বাচ্য হয় না।
৫. কর্তারুপী কর্ম শূন্য বিভক্তি হয়।
৬. প্রকৃত কর্তা গৌণ ভাবে অবস্থান করে।
৭.রা/এর বিভক্তি হয়।
৮. দ্বারা দিয়ে কর্তৃ অনুসর্গ হয়।

উদাহরণ:

(i) রবীন্দ্রনাথের দ্বারা গীতাঞ্জলি রচনা করা হয়েছে।
(ii) আমার বই পড়া হয়েছে।
(iii) পুলিশের দ্বারা চোরটিকে ধরা হয়েছে।

গ. ভাব বাচ্য:-

যে বাক্যে ভাব বা ক্রিয়াপদই প্রধান তাকে ভাব বাচ্য বলে।

বৈশিষ্ট:


১. ভাব বাচ্যে ক্রিয়াপদ প্রাধান্য পায়।
২. ক্রিয়া অকর্মক হয়।
৩. কর্তার সঙ্গে ক্রিয়ার সম্পর্ক হয় না
৪. কর্তৃ কারকে সম্বন্ধ পদে র বিভক্তি যুক্ত হয়।

উদাহরণ-


(i) খেলা শুরু হয়েছে।
(ii) একটু ঘুরে আসা যাক।
(iii) তোমার বেড়ানো হয়েছে?
(iv) লোকটির কোথায় থাকা হয়?

অতিরিক্ত সংযোগ-

ভাব বাচ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকে না।

ঘ.কর্মকর্তৃ বাচ্য:-

যে বাচ্যে কর্তার উল্লেখ থাকে না,‌ কর্মই কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে কিংবা কর্ম যেন আপাতভাবে নিজের উপর ক্রিয়া করে তাকে কর্মকর্তৃ বাচ্য বলে।

বৈশিষ্ট্য:

১. বাক্যে কর্তার উল্লেখ থাকে না।
২. কর্মই কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
৩. সাধারণত ক্রিয়াপদকে কে বা কী দ্বারা প্রশ্ন করলে একই উত্তর পাওয়া যায়।

উদাহরণ:-

(i) শঙ্খ বাজে।
(ii) বৃষ্টি পড়ে।
(iii) শান্তি বিরাজ করে।
(iv) বাড়ি তৈরি হয়।

অতিরিক্ত সংযোগ

– কর্মকর্তৃ বাচ্য ক্রিয়াপদে কর্তৃবাচ্যের রূপ অক্ষুণ্ন থাকে।

মনে রাখো-

1) অকর্ম ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর:- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। অর্থাৎ, যে ক্রিয়ার অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য কোনো কর্মের (বস্তু বা ব্যক্তি) প্রয়োজন হয় না, তাকেই অকর্ম ক্রিয়া বলে।

  • উদাহরণ:- সৌরভ পড়ে। (এখানে ‘পড়ে’ ক্রিয়ার কোনো কর্ম নেই, তাই এটি অকর্মক ক্রিয়া)।

2) সকর্ম ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর:- সকর্ম ক্রিয়া (Transitive Verb) হল এমন এক ধরনের ক্রিয়াপদ যার কর্ম (object) থাকে, অর্থাৎ ক্রিয়াটি যার উপর সম্পন্ন হয়। এই ক্রিয়ার ক্ষেত্রে, বাক্যে একটি কর্মপদ ব্যবহার করা হয় যা নির্দেশ করে কে বা কী কাজটি গ্রহণ করছে।

  • উদাহরণ:- “মা ভাত রান্না করছেন।”
    → এখানে, ‘ভাত’ হল ‘রান্না করছেন’ ক্রিয়ার কর্ম।

3) অনুক্ত কর্তা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর:- কর্মবাচ্যের কর্তাকে অনুক্ত কর্তা বলে। এই কর্তৃপদে ‘দ্বারা’, ‘দিয়া’, ‘কর্তৃক’ এই বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন:- রাম কর্তৃক রাবণ নিহত হয়েছিল। অথবা, রামের দ্বারা রাবণ নিহত হয়েছিল। এখানে ‘রাম কর্তৃক’, ‘রামের দ্বারা’ অনুক্ত কর্তা। কৌ

4) উক্ত কর্ম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর:- কর্মবাচ্যের কর্মকে বলে উক্ত কর্ম। উক্ত কর্ম ‘কে’, রে’, ‘য়’ বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন: রামচন্দ্র কর্তৃক রাবণ নিহত হয়েছিল। এখানে ‘রাবণ’ পদটি উক্ত কর্ম।

5) তির্যক বিভক্তি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

তির্যক বিভক্তি:- কর্মবাচ্যের কর্তৃপদে পর পর দুটি বিভক্তি বসলে যে বিভক্তি মূল বিভক্তিকে প্রভাবিত করে, তাকেই বলে তির্যক বিভক্তি। যেমন: রামের দ্বারা রাবণ নিহত হয়েছিল। এখানে ‘এর’ বিভক্তিটি ‘দ্বারা’ মূল বিভক্তিটিকে প্রভাবিত করেছে।।ন অতএব ‘এর’ বিভক্তিটি এখানে তির্যক বিভক্তি।

বাচ্য পরিবর্তন


সংজ্ঞা – বাক্যের অর্থের কোনরূপ পরিবর্তন না ঘটিয়ে এক বাচ্য থেকে অন্য বাচ্যে পরিবর্তন করা হলে তাকে বাচ্চান্তর বা বাচ্য পরিবর্তন বলে।

ক. কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তনের নিয়ম:


১. কর্মবাচ্যে র/এর বিভক্তিযুক্ত হয়।
২. কর্তৃবাচ্যের কর্ম কর্মবাচ্যে শূন্য বিভক্তি হয়ে যায়।
৩. কর্তৃবাচ্যে দুটি কর্ম থাকলে কর্মবাচ্যে মুখ্য কর্মটি প্রাধান্য পায়।
৪. কর্মবাচ্যে রূপান্তরকালে প্রায়সই কর্তার পরে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক অনুসর্গ বসে।

উদাহরণ-


কর্তৃবাচ্য- মা রান্না করেছে।
কর্মবাচ্য- মায়ের দ্বারা রান্না করা হয়েছে।

কর্তৃবাচ্য- ক্রমে সবই জানলাম।
কর্মবাচ্য- ক্রমে সবই জানা গেল।

কর্তৃবাচ্য- রাম রাবণকে নিহত করেন।
কর্মবাচ্য- রাম কর্তৃক রাবণ নিহত হন।

কর্তৃবাচ্য- আমি চাঁদ দেখলাম
কর্মবাচ্য- আমার দ্বারা চাঁদ দেখা হল।

কর্তৃবাচ্য- আমাকে তুমি প্রথম দেখছো।
কর্মবাচ্য- তোমার আমাকে প্রথম দেখা হচ্ছে।

কর্তৃবাচ্য- রাতে আপনি কি খান?
কর্মবাচ্য- রাতে আপনার কি খাওয়া হয়?

খ. কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তনের নিয়ম:


১. কর্তৃবাচ্যে র/এর বিভক্তি লুপ্ত হয়
২.দ্বারা, দিয়ে কর্তৃক অনুসর্গ কর্তৃবাচ্যে লোভ পায়।
৩. কর্তা ও ক্রিয়া একই পুরুষের অনুগামী হয়।
৪. সংযোগ মূলক ক্রিয়াটি সমাপিকা ক্রিয়াতে পরিণত হয়।

উদাহরণ-


কর্মবাচ্য- তার এখনো বইটি পড়া হয়নি।
কর্তৃবাচ্য- সে এখনও বইটি পড়েনি।

কর্মবাচ্য-আগে এখানে নরবলি হতো।
কর্তৃবাচ্য-আগে এখানে নরবলি দিত।

কর্মবাচ্য- কাউকে এ কথা বলার নয়।
কর্তৃবাচ্য- কাউকে এ কথা বলতে পারি না।

কর্মবাচ্য-এসো, অংকটা করে ফেলা যাক।
কর্তৃবাচ্য- এসো, অংকটা করে ফেলি।

কর্মবাচ্য- শিক্ষকের দ্বারা ছেলেটি প্রশংসিত হল।
কর্তৃবাচ্য- শিক্ষক ছেলেটির প্রশংসা করলেন।

গ. কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে পরিবর্তনের নিয়ম:


১. ভাববাচ্যে কর্তার সঙ্গে র/এর বিভক্তিযুক্ত হয়।
২.হ বা য ধাতু দিয়ে সমাপিকা ক্রিয়াটি গঠিত হয়।
৩. কর্তৃবাচ্যের সমাপিকা ক্রিয়াটি ভাববাচ্যে ক্রিয়াজাত বিশেষ্যে পরিণত হয়।
৪. ভাব বাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।

উদাহরণ-


কর্তৃবাচ্য: মশাই, যাবেন কোথায়?
ভাববাচ্য: মশাইয়ের কোথায় যাওয়া হবে?

কর্তৃবাচ্য: কী করিতেছ?
ভাববাচ্য: কী করা হইতেছে?

কর্তৃবাচ্য: আমি খাইব না।
ভাববাচ্য: আমার খাওয়া হইবে না।

কর্তৃবাচ্য: আপনি কোথায় থাকেন?
ভাববাচ্য: আপনার কোথায় থাকা হয়?

কর্তৃবাচ্য: আসুন, বসুন।
ভাববাচ্য: আসা হোক, বসা হোক।

ঘ. ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তনের নিয়ম:


১. কর্তার র/এর বিভক্তি লুপ্ত হয়।
২.হ বা য ধাতু থেকে তৈরি সমাপিকা ক্রিয়াটি লুপ্ত হয় এবং এক ওদিক ক্রিয়া বসে।

উদাহরণ-


ভাববাচ্য: আসতে আজ্ঞা হয়।
কর্তৃবাচ্য: আসুন।

ভাববাচ্য: একটু বসতে চাওয়া হচ্ছে।
কর্তৃবাচ্য: একটু বসতে চাইছি।

ভাববাচ্য: বারবার দেখা গেছে।
কর্তৃবাচ্য: বারবার দেখেছি।

ভাববাচ্য: বাড়িতে অল্পস্বল্প পড়া হচ্ছে।
কর্তৃবাচ্য: বাড়িতে অল্পস্বল্প পড়ছি।

ভাববাচ্য: তোমার বেড়িয়ে আসা হল?
কর্তৃবাচ্য: তুমি বেড়িয়ে এলে?

কর্তাবাচ্য

‘কর্তৃবাচ্য’-র বদলে ‘কর্তাবাচ্য’ বলা শ্রেয়। কেন-না, এখানে ‘কর্তাবাচ্য’ বললে বাক্যের প্রকাশ্য কর্তা বা উদ্দেশ্যের প্রাধান্যকে স্বীকার করা হয়। কর্মবাচ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কর্মই কর্তার স্থান গ্রহণ করে এবং ক্রিয়া কর্মের পুরুষকে অনুসরণ করে। সুতরাং, কর্মবাচ্যে কর্ম যে কর্তা রূপে বিরাজ করে তা মূলত ঘটিত কর্তা, কিন্তু কর্তাই। এই দিক থেকে বিচার করলে কর্তাবাচ্যের কর্তাকে বলতে হয় ঘটক কর্তা এবং কর্মবাচ্যের কর্তাকে বলতে হয় ঘটিত কর্তা। অর্থাৎ কর্তাবাচ্যের দুটি রূপ বেরিয়ে আসে ঘটক কর্তাবাচ্য এবং ঘটিত কর্তাবাচ্য।

ঘটক কর্তাবাচ্য:

বাচ্যে ক্রিয়াপদ সরাসরি কর্তার অনুসারী হলে তাকে বলা হয় ঘটক কর্তাবাচ্য। ঘটক কর্তাবাচ্যের ক্ষেত্রে বাস্তব বা কল্পিত কর্তা সরাসরি কাজটি করে। যেমন- মাস্টারমশাই ছেলেটিকে হাতের লেখা সুন্দর করতে বললেন। সে কালই বাড়ি যাবে। বইটি পোকায় কেটেছে।

ঘটিত কর্তাবাচ্য:

বাচ্যে কর্মপদ কর্তার ভূমিকা নিয়ে ক্রিয়ার সঙ্গে অন্বিত হলে তাকে বলা হয় ঘটিত কর্তাবাচ্য। ঘটিত কর্তাবাচ্যের ক্ষেত্রে মানুষ বা কোনো প্রাণী কাজটির মূল ঘটক হলেও কোনো অজীব অপ্রাণীবাচক বিশেষ্যকে বাক্যের কর্তা রূপে দেখানো হয়। যেমন- হালকা মেঘ উড়ে চলেছে। তুমুল বর্ষণ হচ্ছে।

বহিরঙ্গ ব্যাকরণ আলোচনায় কর্মকর্তৃবাচ্যকে কর্তাবাচ্য (মতান্তরে কর্তৃবাচ্য) হিসেবেই গ্রহণ করাই শ্রেয়। কারণ, বাক্যের সংগঠনে ক্রিয়া সমাপ্তির ক্ষেত্রে যে শব্দটি কর্তা রূপে প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে তাকেই কর্তা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। কোনো অদৃশ্য মানবিক অস্তিত্বকে কর্তা হিসেবে স্বীকার না করাই শ্রেয়।

ভাববাচ্য ৪ অনেকেই মনে করেন অসমাপিকা ক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত বাক্য-সংগঠন যেখানে বাক্যের উদ্দেশ্য হিসেবে স্থান নেয়, তাদেরই ভাববাচ্য বলা সমীচীন। যেমন- তোমাকে এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে।

এই ভাববাচ্যকে তিন দিক থেকে বিচার করা যেতে পারে- ১। সম্বন্ধ-কর্তাবাচক ভাববাচ্য, ২। গৌণকর্ম-কর্তাবাচক

ভাববাচ্য এবং ৩। লুপ্ত-কর্তাবাচক ভাববাচ্য।

সম্বন্ধ-কর্তাবাচকঃ

যে ভাববাচ্যে ক্রিয়াপদ সম্বন্ধপদ যুক্ত কর্তার অনুসারী না হয়ে নিজেই প্রাধান্য পায়, তাকে সম্বন্ধ-কর্তাবাচক ভাববাচ্য বলে। যেমন- বিষয়টা সবাইকে আমার জানানো উচিত। ওদের মাছ ধরা সারারাত ধরে চলছে। আমার দ্বারা এ লেখা সম্ভব হবে না।

গৌণকর্ম-কর্তাবাচকঃ

যে ভাববাচ্যে ক্রিয়াপদ ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত কর্তার অনুসারী না হয়ে নিজেই প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে গৌর্ণকর্ম-কর্তাবাচক ভাববাচ্য বলে। যেমন- আমাকে এ লেখাটা আজ লিখতেই হবে। প্রমথকে আজ বিকালে দিল্লি যেতে হবে।

লুপ্ত-কর্তাবাচক: যে ভাববাচ্যে ক্রিয়াপদ উহ্য কর্তার অনুসারী না হয়ে নিজেই প্রাধান্য পায়, তাকে লুপ্ত কর্তাবাচক ভাববাচ্য বলে। যেমন- এখানে এ কথা বলা চলে না। এই পথ দিয়ে বাজারে যাওয়া যায়। এখন বৃওিয়ানোর সময় নয়।

বাচ্য – VOICE

Leave a Reply