হিটলার ও ন্যাৎসীবাদ (Hitler and Nazism) এই দুটি শব্দ একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। হিটলার ছিলেন নাৎসি পার্টির নেতা এবং তিনি ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির স্বৈরশাসক ছিলেন। নাৎসিবাদ হলো একটি রাজনৈতিক মতবাদ যা মূলত জার্মানির নাৎসি পার্টির আদর্শকে বোঝায়। এই মতবাদে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব, ইহুদিবিদ্বেষ, এবং আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের উপর জোর দেওয়া হতো।
Table of Contents
READ MORE – D DAY (Day of deliverence) ডি-ডে’ দিবস (1944)
হিটলার ও ন্যাৎসীবাদ (Hitler and Nazism)
• জার্মানিতে নাৎসীবাদী শক্তির উত্থান:-
মানবতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ঘটনা হল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে অস্ট্রিয়া সার্বিয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা হয় ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রোউইলসনের আদর্শবাদের ওপর ভিত্তি করে জার্মানি আত্মসমর্পণ করে। মিত্রপক্ষ পরাজিত জার্মানিকে যুদ্ধ অপরাধী দেশ হিসাবে ঘোষণা করে এবং তার ওপর কঠোর জবরদস্তিমূলক ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এই কঠোর সন্ধি জার্মানি মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেনি। ফলে জার্মানিতে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

▶ উইমার বা ভাইমার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা:-
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর সমগ্র জার্মানি জুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। এমনকি রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভও শুরু হয়। এই অবস্থায় কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে না এনে সপরিবারে আত্মরক্ষার জন্য হল্যান্ডে পলায়ন করেন। ফলে সমগ্র বার্লিন জুড়ে এক ঘোর অরাজকতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় জার্মানির সোস্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টির নেতা ফ্রেডারিক ইবার্ট ও হ্যারিস-এর নেতৃত্বে বার্লিন পার্শ্ববর্তী ভাইমার নগরীতে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে এক প্রজাতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়। এই প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে ‘ভাইমার প্রজাতন্ত্র’ বা ‘উইমার প্রজাতন্ত্র’ বলা হয়। এই প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ইবার্ট যিনি ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষর করেন।
যে পরিস্থিতিতে ভাইমার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই পরিস্থিতিকে অধ্যাপক রাইডার ‘আগ্নেয়গিরির ওপরে নৃত্য করার সাথে তুলনা করেছেন’। ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষর করার জন্য অধিকাংশ জার্মান ভাইমার প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ডাওয়েজ পরিকল্পনা (১৯২৪ খ্রিঃ) ও ইয়ং পরিকল্পনা (১৯২৯ খ্রিঃ) অনুসারে জার্মানিকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়। ইতিমধ্যে জার্মানিতে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার আবির্ভাব ঘটে। এমতাবস্থায় জার্মানির হাল ধরেন ভাইমার প্রজাতন্ত্রের গুস্তাভ স্ট্রেসম্যান। তারই উদ্যোগের জন্যই ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে জার্মানি জাতিসংঘের সদস্যপদ পায়। তিনি পাশ্চাত্যদেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছিলেন।
তাঁর অমর কৃতিত্বের জন্য ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর নতুন সমস্যা দেখা দেয়। ১৯২৯-৩০-এর আর্থিক মন্দা জার্মানির অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তোলে। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, খাদ্যভাব শিল্প ধর্মঘট চরম আকার ধারণ করে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি হুভার তাঁর ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে (যা হুভার মারাটোরিয়ান নামে পরিচিত) জার্মানি এক বছরের জন্য (১৯৩১-এর জুলাই থেকে ১৯৩২-এর জুন) ঋণ পরিশোধে ছাড় পেলেও ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে জার্মানি জানিয়ে দেয় যে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা তার নেই। এইরকম এক পরিস্থিতিতে জার্মানিতে একের পর এক মন্ত্রীসভার পতন ঘটে যা হিটলারের আবির্ভাবের পথকে প্রশস্ত করেছিল।
▶ হিটলারের উত্থান:-
১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল জার্মান সীমান্তের অস্ট্রিয়ার অন্তর্গত ব্রাউনাউ গ্রামে চর্মকারের গৃহে তাঁর জন্ম হয়। শৈশবেই প্রথমে তিনি তার পিতা পরে তার মাতাকে হারিয়েছিলেন ফলে অনেকগুলি ভ্রাতা ভগিনীদের নিয়ে তাকে চরম দরিদ্রে কাটাতে হয়েছিল। আঠারো বছর বয়সে লিনৎস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে তিনি শিল্পকলা শেখার জন্য ভিয়েনাতে যান। সেখানে ‘একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ পাঠগ্রহণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যাভেরিয়ার সদস্য জার্মানির হয়ে যুদ্ধে যোগদান করে তিনি ‘আইরন ক্রস’ উপাধি লাভ করেন।
▶ নাৎসিদল গঠন:-
বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেনাদলে যোগদান করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি স্বগুণে দলের অন্যতম নেতায় পরিণত হন। এরপর ওই দলের নামকরণ হয় National Socialist German Workers Party (ন্যাশনাল সোসালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি) বা নাৎসিদল বা Nazi Party ।
▶ Mein Kamf বা আমার সংগ্রাম রচনা:-
১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি লুডেন ডর্ফের সহযোগিতায় ‘বিয়ার হল অভ্যুত্থান’ চেষ্টা করলে হিটলারের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু নয় মাসের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। উক্ত নয় মাসেই তিনি লিখে ফেলেন তাঁর ৭২৪ পৃষ্ঠার প্রখ্যাত আত্মজীবনী ‘মেইন ক্যাম্প’ বা ‘আমার সংগ্রাম’। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শ ও নাৎসি দলের কর্মসূচি ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই গ্রন্থে তিনি সংসদীয় রাজনীতির নিন্দা করেছিলেন ঠিক তেমনি ব্যক্তিকেন্দ্রিক একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে জার্মানির ‘উন্নতি সম্রাট’ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
এই গ্রন্থে তিনি তার ‘হেরেনডক’ তত্ত্বের কথা প্রচার করেছিলেন। তিনি বলতেন জার্মানরাই একমাত্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি। এই জার্মানিই একমাত্র আর্য বংশদ্ভূত যাদের বর্ণসংকর হয়নি তাই জার্মানরাই একমাত্র সারা বিশ্বে প্রভুত স্থাপনের অধিকারী। আমার সংগ্রাম গ্রন্থটিতে তিনি রাষ্ট্র ও সর্বোচ্চ দলনেতার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের কথা ঘোষণা করেন। তাই উক্ত গ্রন্থটিকে নাৎসিদলের বাইবেল বলা হয়।
• লক্ষ্য:-
Mein Kamf গ্রন্থে হিটলার নাৎসী দলের লক্ষ্য ব্যক্ত করেন। এই লক্ষ্যগুলি হল- (ক) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ভার্সাই সন্ধি বাতিল করে এক শক্তিশালী জার্মান রাষ্ট্র গঠন করা। (খ) ইউরোপের জার্মান ভাষাভাষির মানুষের নিয়ে তৃতীয় সংগঠন করা। (গ) ইহুদিদের বিরোধিতা। (ঘ) কমিউনিস্ট ও ক্যাথলিকদের বিরোধিতা। (ঙ) বেকার সমস্যার সমাধান। (চ) ভূমিসংস্কার। (ছ) নারী, শ্রমিক ও শিশুদের কল্যাণ করা।
▶ হিটলারের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি:-
হিটলারের বাগ্মিতা এবং লক্ষ ও কর্মসূচিতে আকৃষ্ট হয়ে বেকার যুবকেরা যেমন নাৎসি দলে নাম লেখাতে থাকে তেমন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরাও নাৎসিদলে যোগ দেয়। জার্মানির শিল্পপতিরা কমিউনিস্ট দলের প্রতিরোধের জন্য হিটলারকে সমর্থন করতে থাকে। হিটলার বিভিন্ন জনসভায় ভাইমার প্রজাতন্ত্র বিরোধী প্রচার চালিয়ে নাৎসি দলের ক্ষমতায় আসার পথ পরিষ্কার করেন।
▶ হিটলারের ক্ষমতা দখল:-
১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে নাৎসিদল ১০৭টি আসন পেয়ে জার্মানির বৃহত্তম জাতীয় দলে পরিণত হয়। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই-এর নির্বাচনে তারা ২৩০টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দলে পরিণত হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। এই সময় ফন পাপেন হিটলারকে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকার গঠনে আহ্বান জানালে হিটলার তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে হিটলার ও পাপেন মিলে একটি যৌথ সরকার গঠন করেন।
এরপর তিনি কমিউনিস্টদের দখলের জন্য রাইখস্টাগ ভবনে অগ্নিসংযোগ করে। ওই দায় কমিউনিস্টদের ওপরে চাপিয়ে কমিউনিস্ট নিধন শুরু করেন। এরপর ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনে মোট ২৮৮টি আসন পেয়ে আবার যুগ্ম সরকার গঠন করেন। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের রাষ্ট্রপতি হিন্ডেন বুর্গ-এর মৃত্যুর পর তিনি একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদ দুটি গ্রহণ করেন। এবং তিনি নিজেকে ফুয়েরার বা প্রধান নেতা হিসাবে ঘোষণা করেন।
▶ নাৎসিকরণ নীতি:-
হিটলার ক্ষমতা দখলের পর নাৎসিকরণ নীতি নেওয়ার জন্য যে উপদেশগুলি নিয়েছিলেন সেগুলি হল- (ক) নাৎসিদল ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
(খ) জার্মানির সমস্ত সরকারি কর্মচারি ও সেনাদেরকে নাৎসিবাদের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে বলে।
(গ) জার্মানির প্রদেশগুলির স্বায়ত্বশাসন বাতিল করে নাৎসিশাসন বলবৎ করা হয়।
(ঘ) ইহুদিদের সঙ্গে জার্মানদের বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়।
(ঙ) ইহুদিদের দেশ থেকে বিতারণ শুরু হয়। এই সময় প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন দেশ ছাড়া হন।
(চ) নাৎসিদল ও জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রচারের জন্য বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকগুলিকে নাৎসি মতাদর্শের ভিত্তির ওপরে রচনা করা হয়।
(ছ) জার্মানিতে সামরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।
(জ) জার্মান জনমানসে নাৎসিদলের অনুকূলে প্রচার কার্য চালানো হয়।
▶ নাৎসি সামরিক সংগঠন:-
হিটলারের বিশ্বস্ত অনুচর এরনেস্ট রোমের নেতৃত্বে বেকার যুবকদের নিয়ে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে গঠন করেন আধাসামরিক ঝটিকা বাহিনী যার নাম ছিল স্ট্রম টুপাস। এদের সংক্ষেপে জ.আ. বলা হত। এই বাহিনী বাদামি রঙের পোষাক পরিধান করতো বলে তাদের ‘ব্রাউন শার্টস’ বলা হত। এই দলের কাজ ছিল দুটি (১) নাৎসি দলের সভা সমিতিগুলিকে পাহারা দেওয়া (২) অন্যদলের সভা সমিতিকে ভেঙে দেওয়া।
এই বাহিনীর ওপরে ছিল ‘শুটস স্টাফলেন’ বাহিনী। এই বাহিনী কালো পোষাক পরিধান করতো বলে তাদের ব্ল্যাকশার্টসও বলা হত। এই বাহিনীর কাজ ছিল মৃত্যু ভয় তুচ্ছ করে নাৎসি নেতাদের জীবন রক্ষা করা। এছাড়া নারী বাহিনী, শুপ্ত পুলিশ বাহিনী, অসামরিক বন্দিশালা প্রভৃতি নাৎসি সংগঠনের অংশ ছিল। এছাড়া এই দলের মুখপাত্রের নাম ছিল Peoples Observer পত্রিকা। নাৎসিদলের প্রচার সচিব ছিলেন দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক ও রাইনল্যান্ডের সাংবাদিক জোসেফ গোয়েবলস।
▶ হিটলারের বিদেশ নীতি:-
তাঁর রচিত আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ ‘মেইন ক্যাম্ফ’ থেকে তাঁর বিদেশ নীতির যে লক্ষ্যগুলি জানা যায় তা হল (ক) অপমানজনক ভার্সাই সন্ধির শর্তকে বাতিল করা। (খ) অতীতের গৌরব পুনরুদ্ধার করে সমগ্র বিশ্বে জার্মান জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করা। (গ) বিভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাসকারি জার্মান ভাষাভাষীদের নিয়ে তৃতীয় রাইখ বা সংগঠন গঠন করা। (ঘ) জার্মানির অস্ত্র সম্ভার বৃদ্ধি করা।
▶ হিটলারের জাতিসংঘ ত্যাগ:-
১৯৩২-১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন ফ্রান্সকে অস্ত্র কমাতে হবে নতুবা জার্মানিকে অস্ত্র বাড়াতে দিতে হবে। কিন্তু হিটলারের এই দাবি সম্মেলনের কর্তৃপক্ষ মানতে অস্বীকার করলে তিনি ২৪ অক্টোবর ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ ত্যাগ করেন।
▶ হিটলারের আগ্রাসীনীতি ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:-
এরপর তিনি রাইন অঞ্চলে সেনাসমাবেশ করেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে রাইন অঞ্চল জয় করেন। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের সঙ্গে এক নৌচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের নৌবাহিনীর ৩৫ শতাংশ নৌশক্তি গ্রহণের অনুমতি পান। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সেখানে তাঁর সেনাবাহিনী পাঠিয়ে যেমন তার অস্ত্রের সফল পরীক্ষা করতে পেরেছিলেন। ঠিক তেমনি বিশ্বে একনায়কতন্ত্রের উত্থানের পথকে প্রশস্ত করেছিলেন।
এরপর ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ‘কমিনটার্ন বিরোধী চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এবং ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের ‘রোম বার্লিন টোকিও অক্ষচুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলে সমগ্র বিশ্বে একনায়কতন্ত্রের ভিত আরো মজবুত হয়। এরপর ভার্সাই ও সেন্ট জার্মাইন সন্ধির দ্বারা অস্ট্রিয়ার সঙ্গে মার্চ মাসে সমগ্র অস্ট্রিয়া জয় করেন। অথচ ইঙ্গ ফরাসী কর্তৃপক্ষ নির্লজ্জ তোষণ নীতি নেয়। এরপরে ১৯৩৮-এর ২৯ সেপ্টেম্বর ‘মিউনিখ চুক্তি’র দ্বারা সুদেতান অঞ্চলে অধিকারের স্বীকৃতি পান।
অথচ এই হিটলার ১৯৩৯-এর মার্চে সমগ্র চেকোশ্লোভাকিয়া জয় করলে ইঙ্গ ফরাসি কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এরপর হিটলার পোল্যান্ড-এর কাছে করিডর দাবি করলে পোল্যান্ড তা দিতে অস্বীকার করলে হিটলার প্রথমেই ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ আগস্ট ১০ বছরের ‘রুশ জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি’ করে রাশিয়াকে নিরপেক্ষ রাখে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। তাই ই এন উডওয়ার্ড বলেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল হিটলারের যুদ্ধ। তিনি এই যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনিই এই যুদ্ধের সূচনা করেন। এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন।
▶ স্পেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিবাদী বনাম বিরোধী আদর্শের প্রচার:-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে সংগঠিত স্পেনের গৃহযুদ্ধ একটি স্মরণীয় ঘটনা। এই গৃহযুদ্ধের ফলেই স্পেনে প্রজাতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা হারায় এবং জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে স্পেনে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ‘কাউডিলো’ বা ‘আজীবন রাষ্ট্রনায়ক’ উপাধি নিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ল্যান্ডসাম স্পেনের গৃহযুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া বলেছেন। স্পেনে, রাশিয়ার সমর্থন পুষ্ট একটা প্রজাতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় বলবৎ ছিল।
১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি গোষ্ঠী বিদ্রোহ ঘোষণা করে। স্পেনের যাজক, জমিদারদের বেশিরভাগ অংশ, বুজুয়া শিল্পপতি, দক্ষিণপন্থি ন্যাশনালিস্ট দলও ফ্রাঙ্কের পক্ষ অবলম্বন করেন। স্পেনের এই গৃহযুদ্ধের সময় সমগ্র স্পেন প্রজাতন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী এই দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। স্পেনের পশ্চিম অংশ ফ্রাঙ্কোর পক্ষে থাকলেও পূর্বাংশ ও রাজধানী মাদ্রিদ, ভ্যালেনশিয়া, বার্সিলেন প্রভৃতি শহরগুলি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের পক্ষেই ছিল।
▶ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ভূমিকা:-
রাশিয়া, স্পেনের প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থনের কথা বললেও ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স যুদ্ধে নিরপেক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে যেমন একনায়কতন্ত্রী শক্তিকে প্রশ্রয় দেন তেমনি গণতন্ত্রের বিপর্যয়েও সাহায্য করেন। এমনকি ইউরোপের ২৭টি দেশও এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ ছিল।
▶ ইতালি ও জার্মানির ভূমিকা:-
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুসোলিনী স্পেনে প্রায় পঞ্চাশ হাজার সেনা বাহিনী পাঠান। অন্যদিকে জার্মানিও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। হিটলার তার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য তার বিমানবাহিনী লুফৎ ওয়াফ ও ট্যাঙ্ক বাহিনী পাঠান। এই যুদ্ধে ফ্রাঙ্কোর জয় সুনিশ্চিত জেনে ইতালি ও জার্মানি সেনাদের সরিয়ে নেন।
▶ ফলাফল ও গুরুত্ব:-
১৯৩৯-এর ৪ এপ্রিল ফ্রাঙ্কো জয়লাভ করে। ফলে স্পেনে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। এই গৃহযুদ্ধ প্রায় দশলক্ষ মানুষ নিহত হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম কারণ-
(১) স্পেনে একনায়কতন্ত্রের উত্থান, বিশ্বের ফ্যাসিবাদী শক্তির হাতকে শক্ত করে।
(২) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হিটলার ও মুসোলিনী কাছাকাছি আসে।
(৩) হিটলার তার সেনাবাহিনীর শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ পান।
(৪) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হিটলার ও মুসোলিনীর শক্তি বৃদ্ধি পায়।
(৫) ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তোষণ নীতির ফলে স্পেনের গৃহযুদ্ধ আন্তর্জাতিক চরিত্র লাভ করে।
তাই অধ্যাপক ডেভিড টমসন মন্তব্য করেছেন The Chief benificiary of the work was not Mussalini who helped most, but Hittir অর্থাৎ মুসোলিনী যিনি বেশি সাহায্য করেছিলেন তিনি নন, বরং লাভবান হলেন হিটলার।
▶ লেনিন ও তার চিন্তা NEP:-
লেনিনের প্রকৃতনাম ফ্রাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ার কাইজান প্রদেশের এক শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাতা শিক্ষকতার পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার নাম আলেকজান্ডার ইউলিয়ানভ। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে হত্যার অপরাধে লেনিনের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। লেনিনকে কাইজান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসাবে আইনে স্নাতক হন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল স্কুপ স্কায়ার। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইসক্রা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে সোসাল ডেমোক্রাটিক দল দ্বিধাবিভক্ত হলে তিনি বলশেভিক দলে যোগ দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি লেনিন নামটি ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন। ১৯১৭-এর মার্চ বিপ্লবের পর তিনি দেশে ফিরে বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিস’ ঘোষণা করেন। তিনি ছিলেন অক্টোবর বিপ্লবের প্রাণপুরুষ সংগঠক ও পরিচালক। তিনি ১৯১৮ থেকে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যুদ্ধসাম্যবাদ নামে আর্থিক ব্যবস্থার সূচনা করেন। এর দ্বারা তিনি রাষ্ট্রের সমস্ত জমি দখল, কৃষকদের সমস্ত ফসল অধিগ্রহণ ও কারখানা রাষ্ট্রীয়করণ করেন।
এরপর তিনি ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে তার পরিকল্পনা থেকে কিছুটা সরে আসেন এবং ওই বছরে দশম পার্টি কংগ্রেসে মিশ্র আর্থিক পরিকল্পনা যুক্ত যে নতুন অর্থনীতির প্রস্তাব দেন তা NEP নামে বা New Ecomomic Policy নামে পরিচিত। রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রবাদের পাশে ব্যক্তিগত মালিকানাকে মেনে নেওয়া হয়েছিল। ক্ষুদ্রশিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মালিকানা ফিরিয়ে আনা হয়। বিদেশি শিল্পপতিদের সহজ শর্তে শিল্প স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমানো হয়। এর ফলে শিল্প ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয় এবং রুশ জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায় ও কাজের উৎকর্ষতার ভিত্তিতে শ্রমিক মজুরি নির্ধারণের ফলে শ্রমিকেরও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
▶ হুভার মারাটোরিয়াম:-
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ছিলেন হুভার। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মহামন্দা শুরু হলে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থায় যে সমস্ত ইউরোপিও দেশ আমেরিকাকে ঋণের অর্থ প্রদান করতো তারা আর্থিক সমস্যায় পড়ে। এই অবস্থা বিবেচনা করে মার্কিন রাষ্ট্রপতি হুভার একটি ঘোষণার দ্বারা বলেন যে আগামী এক বছরে কোনো দেশকেই ঋণের অর্থ প্রদান করতে হবেনা। এটি হুভার মারাটোরিয়াম বা হুভার স্থগিতাদেশ নামে পরিচিত এই স্থগিতাদেশ ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ অবধি বলবৎ ছিল। এর ফলস্বরূপ ইউরোপের অনেক দেশই খানিক স্বস্তি পায়। তবে এই স্থগিতাদেশ ফ্রান্স কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কারণ ফ্রান্স, জার্মানির কাছ থেকে প্রত্যেক বছর যে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করতো তা না পাওয়ায় ফ্রান্সের ক্ষতি হয়।
▶ ফ্যাসিবাদ রাজনীতি, অর্থনীতি ও জাতিবিদ্বেষ:-
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উদ্ভব ঘটে। ফ্যাসিস্ট শব্দের অর্থ দড়ি বাঁধা কাষ্ঠ দণ্ড। এটি প্রাচীন রোমের রাজারা রাজশক্তির প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করতেন। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির মূল কথাই হল যে রাষ্ট্র সমস্ত জাতির উৎস। রাষ্ট্রের বাইরে আলাদা কোনো শক্তির অস্তিত্ব নেই। রাষ্ট্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করাই হল রাষ্ট্রজীবনের লক্ষ্য। বিশ্বে ইতালির মর্যাদাবৃদ্ধির জন্য সুদূর বিদেশ নীতিতে তারা বিশ্বাসী। ফ্যাসিবাদী অর্থনীতির মূল লক্ষ্যই হল রাষ্ট্রের আর্থিক বুনিয়াদিকে সুদৃঢ় করা।
এই কারণে মুসোলিনী জনগণের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন। তিনি সমাজতান্ত্রিকদের হাত থেকে ব্যক্তিগত বিষয় সম্পত্তি ও দেশকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদী অর্থনীতিতে ইতালির লক্ষ্য ছিল ভার্সাই চুক্তি বাতিল করে কড়ায় গন্ডায় ইতালির পাওনা বুঝে নেওয়া। মুসোলিনী ইতালির কৃষি ও শিল্প ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে, বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চেয়েছিলেন। মুসোলিনীর রাজত্বকালে ইতালির কৃষি ও শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল। তবে হিটলারের মতো মুসোলিনী জাতি বিদ্বেষী ছিলেন না।
▶ নাৎসীবাদী রাজনীতি, অর্থনীতি ও জাতি বিদ্বেষ:-
বিংশ শতকের চারের দশকে জার্মানিতে নাৎসিবাদী নেতা হিটলারের আবির্ভাব ঘটে। নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ দুটোই একনায়কতন্ত্রী মতবাদ হলেও নাৎসীবাদ, ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্রেও বেশি আগ্রাসী নীতিতে বিশ্বাসি। নাৎসিবাদের বাইবেল নামে পরিচিত ‘আমার সংগ্রাম’ নামক গ্রন্থে নাৎসীবাদী রাজনীতির মূল দিকটি হিটলার বর্ণনা করেছিলেন। এই গ্রন্থে তিনি সংসদীয় রাজনীতির নিন্দা করেছিলেন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক একনায়কতন্ত্রের সমর্থন করেছিলেন। নাৎসীবাদী রাজনীতিতে বিরোধীদলের কোন অস্তিত্ব নেই। নাৎসীবাদী একটি জাতিবিয়েসী মতবাদ।
তিনি জার্মানদের বিশুদ্ধ আর্যরক্ত জাতীয় বলে মনে করতেন। তাই তিনি বলতেন যেহেতু জার্মান আর্যদের মধ্যে কোন বর্ণ শংকর হয়নি তাই জার্মান আর্যরাই সারাবিশ্বে প্রভুত্ব স্থাপনের অধিকারী। এই তত্ত্বটি ‘হেরেনভক তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। নাৎসী প্রধান হিটলার প্রবল ইহুদী বিদ্বেষী ছিলেন। তাই তিনি সমস্ত ইহুদিদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করেছিলেন। এছাড়া নাৎসিবাদী অর্থনীতিতে ভূমিসংস্কার, নারী, শ্রমিক, শিশু কল্যান, বেকার সমস্যার সমাধান প্রভৃতি স্থান পেয়েছে।
▶ স্পেনের গৃহযুদ্ধ ও ভারতের প্রগতিশীল চিন্তা:-
১৯৩৬-এর জুলাই মাসে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে প্রজাতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী বিদ্রোহ করলে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সহ ইউরোপের ২৭টি দেশ এই গৃহযুদ্ধে নিরপেক্ষতা অবলম্বনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর হাতকেই মজবুত করেছিল। অন্যদিকে ইতালি ও জার্মানি সরাসরি ফ্রাঙ্কোকে সাহায্য করে। এই গৃহযুদ্ধের সময় ভারতবর্ষ ইংল্যান্ডের একটি উপনিবেশ ছিল। তথাপি ভারতের জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে জওহরলাল নেহেরু স্পেনের রাজধানীতে উপস্থিত হয়ে প্রজাতান্ত্রিক সরকারকেই সমর্থন জানিয়েছিলেন।