জিয়াউদ্দিন বরনি – ফতোয়া-ই-জাহান্দারি – জিয়াউদ্দিন বরনি লিখিত ‘ফতোয়া-ই-জাহান্দারি’ কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থ নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক আদর্শ ও মুসলিম শাসকদের জন্য পরামর্শমূলক রচনা। এই রচনাটি আসলে দিল্লির সুলতানদের অধীনস্থ শাসনব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শাসকের কর্তব্য ও যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করে। এর মাধ্যমে বরনি মুসলিম শাসকদের জন্য একটি আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন, যা ‘নসিহাত’ বা পরামর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়।
Table of Contents
READ MORE – শাহজাহান (1592-1666)

জিয়াউদ্দিন বরনি – ফতোয়া-ই-জাহান্দারি
উত্তর:-
জিয়াউদ্দিন বরণী (১২৮৫-১৩৫৭ খ্রি:) ছিলেন মধ্যযুগীয় ভারতের একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। বরনি বিশেষভাবে পরিচিত তাঁর ‘ফতোয়া-ই-জাহান্দারি’ গ্রন্থের জন্য। বরনি এমন এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন যাঁদের সঙ্গে সুলতান-পরিবারের সখ্য ছিল। এর ফলে বরনি সুলতান- পরিবারের আবহে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলেন।
• পরিচয়:-
(i) প্রথম জীবন:-
জিয়াউদ্দিন বরণী (১২৮৫-১৩৫৭ খ্রিস্টাব্দে) ছিলেন একজন সুলতানি যুগের বিখ্যাত। মুসলিম ঐতিহাসিক। জিয়াউদ্দিন বাণী ১২৮৫ খ্রিস্টাব্দে এক সন্তান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা, কাকা ও ঠাকুরদা দিল্লির সুলতানি শাসনের অধীন উচ্চপদে চাকরি করতেন। তাঁর জন্মস্থান মিরাটে। বুলন্দশহরে তাঁর আত্মীয়দের অনেকের বাস। তাঁর মায়ের বাবা হুসামউঙ্গিন সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবনের অধীনে উচ্চ সরকারি পদে চাকরি করতেন। জিয়াউদ্দিনের পিতা মুরহিদ-উল-মূলক ছিলেন সুলতান জালাল উদ্দিন ফিরোজ খলজির পুত্র আরকালী খাঁনের একজন বিশ্বস্ত নায়েব। বারণীর বাবা কাজি আল-উল-মূলক ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির শাসনকালে নিল্লির এক খ্যাতনামা ‘কোতোয়াল’ (পুলিশ প্রধান)। বরণী নিজে কোনো পদে থাকতে পছন্দ করতেন না। তবে তিনি সুলতান মহম্মদ বিন তুৎলকের সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলেন। এভাবে সুলতানের সঙ্গে তিনি সতেরো বছর কাটিয়েছিলেন।
(ii) সুলতানের সান্নিধ্যে:-
জিয়াউদ্দিন বরনি সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলকের (১৩২৫-১৩৫১ খ্রিস্টাব্দ) ও ফিরোজ তুষলকের (১৩৫১-১৩৫৭ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালের অনেক কথা বর্ণনা করেছেন।
(iii) গ্রন্থ রচনা:-
জিয়াউদ্দিন বরনি ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থ লিখেছেন। তবে তাঁর বড়ো ধরনের আর একটি কাজ হল তুর্কি ভাধায় লেখা ‘ফতোয়া-ই-জাহান্দারি’ গ্রন্থ।

(iv) আমীর খসরুর সঙ্গে বন্ধুত্ব:-
বরণীর আমলে তিনি ‘হিন্দুস্তানের তোতা পাখি’ নামে পরিচিত আলাউদ্দিন খলজির সভাকবি আমির খসরুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তুঘলক তাঁকে সরিয়ে দিলে তিনি সুলতানের অপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এক সময় বারীকে ‘নির্বাসনে’ পাঠানো হয়। এই নির্বাসিত জীবনে তিনি দুই বিখ্যাত গ্রন্থের রচনা করেন। এতে তৎকালীন দিল্লির সরকারের সাথে তার সম্পর্ক, তৎকালীন ধর্ম, রাজজনীতি, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে লেখেন।
(v) ফিরোজ তুঘলকের আনুগত্য লাভ:-
এই গ্রন্থের জন্য তিনি সুলতানের অর্থাৎ নতুন সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের প্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই প্রশ্নের জন্য তিনি কোনো পুরস্কার বা অর্থমূল্য পাননি। এই দুঃখ নিয়ে খুব দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি মারা যান।
(vi) ইতিহাস বিষয়ে বরণীর মত:-
বরণী ইতিহাস চর্চাকে ধর্মশাস্ত্রের চর্চার মতো পবিত্র কাজ বলে মনে করতেন। বরণীর ধারণা ছিল ঐতিহাসিক হবেন ন্যায়-নিষ্ঠ, নির্ভীক ও সত্যবাদী এবং তাঁদের যুগে তাঁরাই হবেন আদৃত। বারণী অভিজাত ও উচ্চশিক্ষিত বলে ঐতিহাসিকের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

♦ ফতোয়া-ই-জাহান্দারির বিষয়বস্তু:-
জিয়াউদ্দিন বরনি: ‘ফতোয়া-ই-জাহান্দারি’ গ্রন্থে মধ্যযুগীয় ভারতে সুলতানি আমলে রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তার বিষদ বিবরণ পাওয়া যায়।
• সমকালীন শাসন ব্যবস্থার আলোচনা:-
এই গ্রন্থে অনেক রাজনৈতিক আদর্শ প্রকাশ পেয়েছে ‘জাহানগিরি’ ও ‘জাহান্দারি’ অর্থাৎ রাজাজয় ও নতুন করে লঙ্গ রাজ্যগুলিতে অধিকার সুসংহত করারই ছিল রাষ্ট্রশস্তির উদ্দেশ্য। বরণী একথা বার বার বলেছেন।
(1) শাসকের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য:- দিল্লির এক মুসলিম শাসক রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে ধর্মীয় গুণাবলি তুলে তাঁর প্রজাদের কাছে কীভাবে কৃতজ্ঞ হয়ে উঠেছিলেন, সেকথা এখানে লেখা আছে।
(2) সুলতানের বংশকৌলিন্য:- সুলতানের ফতোয়া জারির পর উচ্চবর্ণের মুসলিম ‘আসরাফ’ (Ashraf) নিম্নবর্ণের ‘আজলাফ’ (ajlaf), মধ্যবর্ণের ‘আজরাল’ (atral) বহু দলিত, মুসলিম যারা আসরফদের দ্বারা ধর্মীয়ভাবে কলুষিত হয়েছিল (ritually populated) সবার মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল।
(3) ধর্ম ও রাজনীতির মিলন:- বরণী তাঁর প্রশ্নে দেখবার চেষ্টা করেছেন ধর্ম ও সরকারি দিকগুলি কীভাবে মিলিত উচ্চ রাজনৈতিক দর্শন তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। বরণী তাঁর ‘ফতোয়া-ই- জাহান্দারি’ গ্রন্থে লিখেছেন, “ধর্ম ও সরকার যমজ ভাইবোনের মতো।
• শাসকের ধর্মীয় মনোভাব:-
জিয়াউদ্দিন বরণীর ‘ফতোয়া-ই-জাহান্দারি’ গ্রন্থে নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ পেয়েছে যে, ধর্ম রাজনীতির মিশেলে এক উচ্চ রাজনৈতিক আদর্শ সুলতানি আমলে গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, আলাউদ্দিন খলজি যে হিন্দুদের নামি পোশাক পরা, পালকিতে চড়া বা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন তা কিন্তু শুধু গ্রামের মোড়লদের ওপর সব হিন্দুর ওপর এই আদেশ জারি হয়নি।
• হিন্দু নীতি:-
সুলতানি শাসনে হিন্দুরা প্রচুর ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত বলে বরণী তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন। তাই মানুষের। সাধারণ ভুল ভেঙে দিতে ড. ইরফান হাবিব তাঁর Agrarian System of Mughal India’ গ্রন্থে অনেক যুক্তির অবতারণা করেছেন। বরণী বলেছেন যে, তখন রাজধানী দিল্লি ও প্রাদেশিক কেন্দ্রগুলিতে হিন্দুরা মূর্তিপূজা করত। জালালউদ্দিন খলজি বলেছেন “হিন্দুরা যমুনা নদীতে দেবদেবীর মূর্তি বিসর্জন দেবার সময় রাজপ্রাসাদের নীচ দিয়ে শোভাযাত্রা করে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান গাইতে গাইতে নাচতে নাচতে যায়, আর আমি তখন অসহায়।
” এর থেকে দিল্লির সুলতানির সহনশীল শাসননীতির পরিচয় জানা যায়। দিল্লির প্রধান উলেমা কাজি মুথিসউদ্দিনকে আলাউদ্দিন খলজি একদিন বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যে আইন প্রণয়ন আমার কাছে প্রয়োজনীয় মনে হয় আমি তা প্রণয়ন করি। তাই দিল্লির সুলতানির শাসনকে ‘ধর্মাশ্রিত” বলা ঠিক নয়।
• সুলতানের রাজতান্ত্রিক আদর্শ:-
বরণী নিজেই দিল্লির সুলতানি শাসনকে ‘ধর্মাশ্রিত’ বলতে চাননি। তাঁর মতে, দিল্লির সুলতানি শাসন ‘জাহান্দারি’ অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষ বা পার্থিব। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ড. কে. এম. আশরাফ তাঁর ‘Life and condition of the people of Hindustan’ গ্রন্থে বলেছেন দিল্লির সুলতানদের ইসলামীয় আদর্শ ও জীবনদর্শন থেকে তাঁরা মানবজাতির উদ্দেশে শেষ ধর্মগুরুর প্রেরিত পরম বাণীর চরম পরিণতি হল সুলতানি শাসনের সহনশীল ও মানবিক গুণ। ঐতিহাসিক ড. ইস্তিয়াক হোসেন কুরেশি ধরণীর গ্রন্থ্য অবলম্বনে বলেছেন, দিল্লির সুলতানি শাসন ‘ধর্মাশ্রিত’ (Theocracy) ছিল না। কারণ উলেমারা সুলতানি রাষ্ট্র শাসন করেননি। তাই এক আধুনিক ঐতিহাসিকের কথায় বলতে হয়, “ভারতের মুসলমান শাসিত রাষ্ট্রকে পুরোহিততান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে বর্ণনা করা ভুল।” মহম্মদ বিন তুঘলক হিন্দুদের বিশেষ মর্যাদা দিতেন।’
• রাজ্য জয় নীতি:-
তবে বরণী বলেছেন তাঁর ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ (১৩৫৭) গ্রন্থটি আসলে ফিরোজশাহের ইতিহাস। এই নামে আর একটি গ্রন্থ লিখেছেন শামস-ই-সিরাজ আসিফ। আধুনিক পণ্ডিতরা এ কথা স্বীকার করেছেন যে এই গ্রন্থে ধর্ণিত সব তথাই সত্য। তিনি আলাউদ্দিন খলজির চিতোর, রণথম্বর ইত্যাদি জয় এবং মালিক কাফুরের দাক্ষিণাত্য জয়ের কাহিনি তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাই মধ্যযুগের শেষের দিকের অনেক ঐতিহাসিক যেমন নিজামউদ্দিন আহমেদ, বাদাউনি, ফেরিস্তা, হাজি-উদ্ দবির ও আব্দুল হক দেহলবি প্রমুখ বারণীর ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’র ওপর নির্ভর করে তাদের লেখাকে সমৃদ্ধ করেছেন। এ সম্পর্কে আরও প্রচুর প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়।’ এছাড়া জারিনা বীথি, প্রতাপ আগরওয়াল প্রমুখের গবেষণা থেকে আরও তথ্য জানা যায়।

• ইসলামি রাষ্ট্রের নীতি:-
বারণীর রাষ্ট্রচিন্তার ধারণাকে ভিত্তি করে আধুনিক গবেষকদের মধ্যে ডঃ আই. এইচ. কুরেশি, ডঃ এ. বি. এম. হাবিবুল্লা প্রমুখ বলেন, ইসলামি রাষ্ট্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি- ‘আল্লাহ’ হলেন আসল মালিক বা প্রভু, পবিত্র কোরাণের বাণী ও বিধি রাষ্ট্র মানতে বাধ্য, কারণ কোরান হল আল্লার বাণী, ও ‘কোরান শরিফ’ ও ‘শরিয়তি বিধি’ বা কোরানের ভিত্তিতে তৈরি আইন রাষ্ট্র মানতে বাধ্য থাকবে, বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্র একজন মাত্র সার্বভৌম শাসকের অধীনে থাকবে অর্থাৎ বিশ্বরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিকতার ভাব ইসলামীয় রাষ্ট্রের আর এক বৈশিষ্ট্য।
মিল্লাত বা ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ভাতৃত্বই হল রাষ্ট্রের ভিত্তি, বারনী শারিয়তের বাইরে অমুসলমানদের জন্য ‘জাওয়ারিত নীতি’র কথা বলেছেন। মিল্লাত (ইসলাম ধর্মাবলম্বী) ‘আইন-ই-কিতাব’ (‘হিন্দু, ইতুদি, খ্রিস্টান ইত্যাদি জিম্মিরা) ও ‘পৌত্তলিক’ সম্প্রদায়কে নিয়ে রাষ্ট্রের জনগণ গঠিত হবে। এ বিষয়ে আরও বহু তথ্য জানা যায় ড. ইউ. এন. দে, ড. আই. এইচ. কুরেশি ও ড. এম. মুজেরের গ্রন্থ থেকে।
• চরম রাজতন্ত্রের সমর্থন:-
বারনী চরম রাজতন্ত্রের সমর্থন করেছেন। একমাত্র সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ছাড়া সুলতান ইসলামি রাষ্ট্রের প্রভাব তথা খলিফার প্রভাব মেনে চলতেন। বলবন নিজেকে ‘খোদা-ই-নানের’, ‘খোদা-ই-মালিক’, ‘জিলিল্লাহ’ বলতেন। দিল্লির সুলতানরা নিজেদেরকে খলিফার সহকারী হিসাবে তুলে ধরতে “নাসির-ই-আমির-উল- মোমিনিন” ও “ইয়ামিন-উল-খলিফা” উপাধি নিতেন। অনেক সুলতান উলেমা বা কোরানের ব্যাখ্যাকারদের সাহায্যে রাষ্ট্রের আইনকানুন রচনা করতেন। বরণীর মতে, পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের আদর্শ মেনে সুলতানরা এসব করতেন।
ঐতিহাসিক কে. এ. ওয়াজামি তাঁর ‘রিলিজিয়ান অ্যান্ড পলিটিক্স ইন থার্টিনথ সেঞ্চুরি’ গ্রন্থে বলেছেন, মহম্মদ বিন তুঘলক ছাড়া সব সুলতানই শারিয়তি বিধান অনুযায়ী ১২টি কর্তব্যের মধ্যে নিজেদের আবন্ধ রাখতেন। ও. আর. পি. ত্রিপাঠী বলেন, মুসলিম রাষ্ট্র একাধারে সিজার ও পোপের রাষ্ট্র। সুলতানের আধিপত্য হবে শরিয়ত নিয়ন্ত্রিত ও উলেমা প্রভাবিত।’
• রাষ্ট্রে পুলিশি শাসন:-
ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বরণী বলেছেন সুলতানি আমলের ভারতবর্ষ ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বা ‘জাহান্দারি’। কারও মতে, এই শাসন সংস্কৃতি সৃজনধর্মী শাসন। আবার গবেষক এ. বি. এম. হাবিবুল্লার মতে, কিছু রাষ্ট্র ছিল পুলিশ রাষ্ট্র। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই সুজনধর্মী রাষ্ট্রে মানুষের জন্য যেমন তেমনি সামরিক প্রয়োজনে সংস্কারও দরকার হয়েছিল। আবার অনেক দিক খতিয়ে দেখে ড. মুজিবর বলেন ‘দিল্লির সুলতানি শাসন প্রকৃতগতভাবে এককেন্দ্রিক””।
জিয়াউদ্দিন বরনি: ‘ফতোয়া-ই-জাহান্দারি’ দিল্লির সুলতানের অধীন