পৌষমেলা

পৌষমেলা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক উৎসব, যা বাংলা পৌষ মাসের ৭ম দিনে শুরু হয় এবং সাধারণত তিন দিন ধরে চলে। এই মেলাটি ফসল কাটার মৌসুমকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় এবং এটি একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  

READ MORE – বই মেলা

পৌষমেলা

পৌষমেলা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক মেলা ও উৎসব। প্রতি বছর ৭ পৌষ এই মেলা শুরু হয় এবং চলে তিন দিন ধরে। তবে ২০১৭ থেকে এই মেলাটি ছয় দিন ধরে চলে। তবে দোকানিরা সারা পৌষ মাস ধরেই মেলাপ্রাঙ্গনে দোকান দিতে পারেন। এই মেলার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল বাংলা লোকসংগীতের (বিশেষত বাউল গান) অনুষ্ঠান।

১৮৪৩ সালের ২১ ডিসেম্বর (১২৫০ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কুড়ি জন অনুগামীকে নিয়ে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের থেকে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। এটিই শান্তিনিকেতনের পৌষ উৎসবের মূল ভিত্তি।

১৮৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর (১২৯৮ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ) শান্তিনিকেতনে একটি ব্রাহ্মমন্দির স্থাপিত হয়। ১৮৯৪ সালে ব্রাহ্মমন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে মন্দিরের উল্টোদিকের মাঠে একটি ছোটো মেলা আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনের সেই পৌষমেলা শুধুমাত্র বীরভূম জেলার নয়, অন্যান্য অঞ্চলের পর্যটকেদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

১৮৯৪ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে পৌষমেলা। ১২৬ বছরের ইতিহাসে মোট দু’বার বন্ধ থেকেছে পৌষমেলা। ১৯৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথের দীক্ষাগ্রহণের শতবর্ষে মন্বন্তরের কারণে এবং ১৯৪৬-এ সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণে মেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি। 

প্রথম দিকে ব্রাহ্মমন্দিরের (যা কাঁচমন্দির নামেও পরিচিত) উত্তর দিকের মাঠে মেলা আয়োজিত হত। সেই দিন সান্ধ্য উপাসনার পর বাজি পোড়ানো হত। পরে মেলার আয়তন বৃদ্ধি পেলে শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লীর মাঠে মেলার আয়োজন শুরু হয়।

পৌষ উৎসব শুরু হয় ৭ পৌষ (২৩ ডিসেম্বরের কাছাকাছি কোনো তারিখ) তারিখে। ভোরবেলায় সানা বাদনের আয়োজন করা হয়। বৈতালিক দল গান গাইতে গাইতে আশ্রম পরিক্রমা করে। এরপর ছাতিমতলায় উপাসনার আয়োজন করা হয়। এরপর উপস্থিত সবাই গান গাইতে গাইতে উত্তরায়নে উপস্থিত হন।ছাতিমতলার উপাসনার আগে কোনো বৈকালিক হয়না

পৌষমেলা য় বাংলা লোকসংগীত (বিশেষত বাউল গানের) আয়োজন করা হয়। লোকসংগীতের সঙ্গে লোকনৃত্য ও লোকক্রীড়ার অনুষ্ঠান হয়। এই মেলায় পশ্চিমবঙ্গের সকল অঞ্চলের সাংস্কৃতিক নিদর্শনের প্রদর্শনী হয়। শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা নাচ, গান ও নাটকের আয়োজন করেন। প্রত্যেক দিনই ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ২৫ শে ডিসেম্বর আতশবাজি প্রদর্শনী হয়। মেলার শেষ দিনটি শান্তিনিকেতনের ব্যক্তিত্বদের প্রতি উৎসর্গিত।

মেলায় প্রায় ১,৫০০টি স্টল দেওয়া হয়।মেলা উপলক্ষ্যে তিন দিনে ১০,০০০ পর্যটক সমাবেশ হয় এখানে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, শান্তিনিকেতনে প্রতিদিন গড়ে ৩,৫০০ পর্যটক আসেন। কিন্তু পৌষ উৎসব, বসন্ত উৎসব, রবীন্দ্রপক্ষ ও নববর্ষ উপলক্ষ্যে শান্তিনিকেতনে দৈনিক ৪০,০০০ বা তারও বেশি পর্যটক আসেন। তবে শান্তিনিকেতনে পর্যটক নিবাসের সংখ্যা মাত্র ৮৫ এবং তাতে সর্বাধিক ১,৬৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা থাকায় সবাই শান্তিনিকেতনে থেকে যেতে পারেন না। যদিও এখানে বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষ্যে ভাড়ায় ঘর পাওয়া যায়। স্থানীয় ছাপা কাপড়ের সামগ্রী ও কুটির শিল্প এই মেলায় পাওয়া যায়।

শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা হল একটি ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক মেলা ও উৎসব যা প্রতি বছর ৭ পৌষ তারিখে শুরু হয় এবং মূলত তিন দিন ধরে চলে, যদিও পরে এর সময়কাল ৬ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই মেলাটি ফসল কাটার মৌসুমকে চিহ্নিত করে এবং বাউল, কীর্তন, এবং কবিগানের মতো বাংলা লোকসঙ্গীত পরিবেশনার জন্য পরিচিত। মেলাটির সূচনা হয় ১৮৯৫ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা গ্রহণকে কেন্দ্র করে, যা শান্তিনিকেতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান। 

পৌষমেলার সূচনা ও ইতিহাস

  • পৌষমেলার সূচনা হয় ১৩০২ বঙ্গাব্দে (১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ) ৭ পৌষ।
  • এর ইতিহাস প্রায় ৫০ বছর পুরনো, কারণ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৫০ সালের ৭ পৌষ রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের কাছে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন।
  • এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একটি উৎসব ও মেলা আয়োজনের ধারণা ছিল দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের।
  • প্রাথমিকভাবে মেলাটি ‘ভুবনডাঙার মেলা’ নামে পরিচিত ছিল। 

মেলার বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণ

  • সাংস্কৃতিক পরিবেশনা:  – মেলাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল বাউল, কীর্তন, এবং কবিগানের মতো লোকসঙ্গীতের লাইভ পরিবেশনা। 
  • ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প:  – দেশ-বিদেশ থেকে আসা বিক্রেতারা এখানে তাদের হস্তশিল্প, বস্ত্র, এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র নিয়ে আসেন। 
  • ফসল কাটার উৎসব: – এটি মূলত ফসল কাটার মৌসুমের সমাপ্তি উদযাপন করে। 
  • ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন: – শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এই মেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপিত হয়। 

মেলার সময়কাল

  • প্রথাগতভাবে মেলাটি ৭ পৌষ তারিখে শুরু হয়ে তিন দিন ধরে চলত।
  • ২০১৭ সাল থেকে মেলাটির সময়কাল বাড়িয়ে ছয় দিন করা হয়েছে।
  • তবে, বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী বিক্রেতারা পুরো পৌষ মাস জুড়েই মেলা প্রাঙ্গণে তাদের দোকান বসাতে পারেন। 

গুরুত্ব

  • পৌষমেলা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
  • এটি স্থানীয় কারিগর, শিল্পী এবং বিক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুযোগও বটে। 
  • সাম্প্রতিক সময়ে, মেলাটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

পৌষমেলার সূচনা হয় ১৩০২ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ)। তবে ওই দিনটির ইতিহাস আরও ৫০ বছরের পুরনো। জানা যায় ১২৫০ সালের ৭ পৌষ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের কাছে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন। সেই দিনটিকে কেন্দ্র করে উৎসব ও মেলার ভাবনা ছিল দেবেন্দ্রনাথের। শান্তিনিকেতনের আশ্রম ডিডেই তার প্রমাণ মেলে। সেখানে ট্রাস্টিগণ ওই জমিতে মেলা বসানোর উদ্যোগ নেবেন বলে লেখা আছে।

এক সময় এ মেলা ভুবনডাঙার মেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। মেলার বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান আসর বসে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশের মাঠে। ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পেলে বিশ্বভারতীর অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে মেলারও শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। ১৯৬১ সালে মেলা উঠে আসে পূর্বপল্লির মাঠে। এখন অবশ্য তাতেও স্থান সংকুলান হয় না, প্রকৃতপক্ষে পৌষ মেলা চলে গোটা শান্তিনিকেতন জুড়েই। ৭ পৌষ সকালে এখানে ব্রহ্মোপাসনার মাধ্যেমে মেলার সূচনা হয়। আশ্রমিকদের কথায় এটা পৌষ উৎসবের সপ্তমী। বক্তৃতা, স্মৃতিতর্পণ যেমন চলে, তেমনই চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আসেন বিভিন্ন রাজ্য ও বাংলাদেশের শিল্পীরা। থাকে বাউল-ফকিরদের গান।

এ মেলার এক বিশেষত্ব তার হস্তশিল্প ও গ্রামীণ কৃষ্টিতে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে প্রতিটি দ্রব্যই বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ক্ষেত্রেও বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরকে আমন্ত্রণ জানানো হয় অংশ গ্রহণের জন্য। থাকে মৃৎশিল্প, ডোকরা শিল্প, বাঁশি, ডুগডুগি, একতারা। বিশ্বভারতী ও শ্রীনিকেতনের স্টলে পাওয়া যায় বই, বস্ত্র ও চর্মজাত সামগ্রী। কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে শ্রীনিকেতনের ভূমিকার নিদর্শন মেলে এই মেলায়।

সরকারি ভাবে ৩ দিনের হলেও এ মেলায় বেচাকেনা চলে প্রায় পক্ষকাল ধরে। সংগঠকদের সূত্র অনুযায়ী প্রায় ১০০০-১২০০ দোকান বসে। মাটিতে বসা দোকানের সংখ্যাও প্রায় সমান। বহু ভিনদেশি পর্যটকও মেলা উপলক্ষে শান্তিনিকেতনে অস্থায়ী বাসা বাঁধেন।

পৌষমেলা

Leave a Reply