দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে, যা অবউপনিবেশিকরণ নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ স্বাধীনতা লাভ করে এবং ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি তাদের সাম্রাজ্য হারায়।
Table of Contents
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর অবউপনিবেশিকরণ আলোচনা কর।

• ভূমিকা:-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম পর্বে জার্মানির কাছে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পরাজয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে জাপানের চমকপ্রদ সাফল্য ও তার এশিয়া এশিয়াবাসীর জন্য ধ্বনি এশিয়ার পরাধীন জাতিগুলিকে উদ্দীপ্ত করে। তাদের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ভারত, শ্রীলঙ্কা, ব্রহ্মদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ইন্দোচিন, কোরিয়া, মালয়েশিয়াতে ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জয়ী হলেও সামরিক ও আর্থিক দিক থেকে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বাধ্য হয় উপনিবেশগুলিকে মুক্তি দিতে।
• ভারত ও পাকিস্তান:-
ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। 1947 খ্রিস্টাব্দের 4 জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতের স্বাধীনতার আইন পাস হয়। 14 আগস্ট ‘পাকিস্তান’ এবং 15 আগস্ট ‘ভারত’ স্বাধীনতা লাভ করে। অবসান ঘটে দীর্ঘ 190 বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের। স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহরু এবং গভর্নর জেনারেল হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন লিয়াকৎ আলি এবং গভর্নর জেনারেল হন মহম্মদ আলি জিন্না। কিছুদিন পরে হলেও ভারতের ফরাসি ও পোর্তুগিজ অধিকৃত অঞ্চলগুলিও স্বাধীন হয়ে যায়।

• ইন্দোনেশিয়া:-
সুমাত্রা, জাভা, বালি, বোর্নিও সহ শতাধিক দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া ছিল ওলন্দাজ (হল্যান্ডের অধিবাসী) উপনিবেশ। সপ্তদশ শতকের শেষভাগে হল্যান্ড (বর্তমান নেদারল্যান্ড) ইন্দোনেশিয়াতে আধিপত্য স্থাপন করে। ড. সুকর্ণ ও তার সুহার্ত ওলন্দাজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। এজন্য ওলন্দাজ সরকার ড. সুকর্ণকে বন্দি করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সহযোগিতায় তিনি ওলন্দাজদের বিতাড়িত করে 1945 খ্রিস্টাব্দে ‘স্বাধীন ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। জাপান পরাজিত হলে ওলন্দাজরা পুনরায় ইন্দোনেশিয়াতে আধিপত্য স্থাপন করে। ড. সুকর্ণের নেতৃত্বে প্রবল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত 1949 খ্রিস্টাব্দে জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপে ইন্দোনেশিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। ড. সুকর্ণ হন প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং মহম্মদ হাত্তা হন প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
• মালয়েশিয়া (মালয়):-
টিন ও রবারে সমৃদ্ধ মালয় ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। তাই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দিলেও ইংরেজরা মালয়কে স্বাধীনতা দিতে রাজি ছিল না। 1948 খ্রিস্টাব্দে মালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়। কিন্তু পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে টিল্ফ রহমানের নেতৃত্বে মালয়ের মানুষ সংগ্রাম শুরু করে। 1959 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়। মালয়, সিঙ্গাপুর, সারওয়া ও সারা সংযুক্ত হয়ে গঠিত হয় স্বাধীন মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্র।
• ইন্দোচিন:-
ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া, কোচিন-চিন, আন্নাম ও টংকিং নিয়ে গঠিত ইন্দোচিন ছিল ফরাসিদের উপনিবেশ। হো-চি-মিনের নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য এখানে আন্দোলন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান ইন্দোচিন দখল করে। জাপানের পরাজয়ের পর ফ্রান্স পুনরায় ইন্দোচিনে আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট হয় কিন্তু হো-চি-মিনের নেতৃত্বে উত্তর ভিয়েতনামে একটি প্রজাতান্ত্রিক সরকার গড়ে ওঠে।
দিয়েন-বিয়েন-ফুর যুদ্ধে ফ্রান্স পরাজিত হয়। জেনিভা চুক্তির দ্বারা লাওস ও কম্বোডিয়া 1954 খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা লাভ করে। ফ্রান্স ভিয়েতনাম থেকে সরে এলে আমেরিকা ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। শুরু হয় আমেরিকার বিরুদ্ধে ভিয়েতনামবাসীর মরণপণ সংগ্রাম। গেরিলাযুদ্ধে ভিয়েতনামীরা আমেরিকাকে পর্যুদস্ত করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। রেডরিভার জল লাল হয়ে যায়, তথাপি হো-চি-মিনের নেতৃত্বে সংগ্রাম চালিয়ে যায়। মার্কিন বোমার আঘাতে ভিয়েতনামের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে কিন্তু ভিয়েতনামীরা স্বাধীনতার দাবিতে অটল থাকে। বিশ্ব জনমতের চাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম থেকে সরে আসে 1973 খ্রিস্টাব্দে। 1975 খ্রিস্টাব্দে ভিয়েতনাম ঐক্যবন্ধ হয়।

• ফিলিপাইন:-
ফিলিপাইন ছিল আমেরিকার উপনিবেশ। স্পেনের কাছ থেকে মার্কিনিরা ফিলিপাইন অধিকার করে নেয়। স্পেনের অধীনে চারশো বছর ও আমেরিকার অধীনে ফিলিপাইন পঞ্চাশ বছর পরাধীন ছিল। স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট ও জাতীয়তাবাদীরা যুক্তফ্রন্ট গঠন করে জাপানি আক্রমণ প্রতিহত করে। 1954 খ্রিস্টাব্দে ফিলিপাইন স্বাধীনতা লাভ করে।
• কোরিয়া:-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পর্যন্ত কোরিয়া ছিল জাপানের অধীন। জাপানি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কোরিয়ার মানুষ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু করে। 1945 খ্রিস্টাব্দে জাপান পরাজিত হলে পটসডাম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুসারে কোরিয়াকে দু-ভাগে বিভক্ত করা হয়-উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ পর্যন্ত UNO 1953 খ্রিস্টাব্দে দুই কোরিয়ার স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করে নেয়।

∆ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আফ্রিকার মানুষের মুক্তি সংগ্রাম:-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অব-উপনিবেশিকরণের সূচনা হয় আফ্রিকাতেও। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইটালি, পোর্তুগাল, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড উপনিবেশ শোষণ ও অত্যাচার চালিয়ে আসছিল। যেমন-আফ্রিকা মহাদেশের মিশর, সুদান, উগান্ডা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, ব্রিটিশ, ক্যামেরুন, ব্রিটিশ কঙ্গো প্রভৃতি দেশ ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ।
ফরাসি উপনিবেশ ছিল গিনি, সেনেগাল, চাদ, তিউনেশিয়া, আলজেরিয়া, থানা, মরক্কো, ফরাসি ক্যামেরুন, সোমালিয়া, মাদাগাস্কার প্রভৃতি দেশ। ইথিওপিয়া, লিবিয়া, প্রভৃতি দেশ ছিল ইটালির উপনিবেশ। পোর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল মোজাম্বিক ও এ্যাঙ্গোলা। বেলজিয়াম কঙ্গো ছিল বেলজিয়ামের উপনিবেশ। বিশ শতকের মধ্যভাগে যাটের দশকে আফ্রিকার একঝাঁক দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এই ষাটের দশককে ‘আফ্রিকার মুক্তির দশক’ বলা হয়। 1957 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1977 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে আফ্রিকার 39টি দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
• মরক্কো:-
উত্তর আফ্রিকার মরক্কো ছিল ফ্রান্স ও স্পেনের উপনিবেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মরক্কোর সুলতান পঞ্চম মহম্মদ ফ্রান্সের কাছে স্বাধীনতার দাবি তোলে। মরক্কোর ইস্তিকলাল জাতীয়তাবাদী দল ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলে। ফ্রান্স দমনপীড়নের দ্বারা মরক্কোবাসীর আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়। স্পেন ও ফ্রান্স মরক্কো থেকে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটাতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ হয়।
• তিউনিশিয়া:-
মরক্কোর মতো তিউনিশিয়াও ছিল ফরাসি উপনিবেশ। হাবিব বর্গিবার নেতৃত্বে নিউডেস্টুর গ্রুপ গেরিলা পদ্ধতিতে ফরাসি সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে। এই নিউডেস্টুর গ্রুপ ও হাবিব বার্গিবাকে দমন করার জন্য ফ্রান্স 70,000 সৈন্য নামায় ও তিউনিশিয়ার হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে বন্দি করে। শেষ পর্যন্ত ফরাসিরা সকল বন্দিকে মুক্তি দেয় এবং 1956 খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে তিউনিশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• আলজেরিয়া:-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের থেকেই ফরাসি শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার মানুষ আন্দোলন শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ফ্রান্স আলজেরিয়াতে একটি উদারনৈতিক শাসনতন্ত্র প্রবর্তন করে। ফ্রান্স বিরোধীরা নির্বাচনে জয়ী হয়। ফ্রান্স এতে শঙ্কিত ও ক্ষুদ্ধ হয়ে নির্বাচন বাতিল করে দেয়। এরপর স্বাধীনতার দাবিতে আলজেরিয়ার মানুষের আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। দ্য গল ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি হলে 1962 খ্রিস্টাব্দে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা মেনে নেয়।

• কঙ্গো:-
কঙ্গো ছিল বেলজিয়ামের উপনিবেশ। আফ্রিকার খরস্রোতা কঙ্গো নদীর অববাহিকা অঞ্চলের নাম কঙ্গো। সোনার খনি, হাতির দাঁত ও মূল্যবান কাঠে সমৃদ্ধ ছিল কঙ্গো। বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড কঙ্গোর ওপর নির্মম শোষণ ও অত্যাচার চালায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কঙ্গোবাসী স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে। কঙ্গোর জাতীয় নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বা পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেন। ভারতবর্ষ, সোভিয়েত রাশিয়া কঙ্গোর দাবিকে সমর্থন করে। অবশেষে 1960 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স কঙ্গোর স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয় এবং 31 জুন কঙ্গো স্বাধীনতা লাভ করে।
• কেনিয়া:-
উনিশ শতকের শেষ ভাগে ব্রিটেন পূর্ব আফ্রিকাতে আধিপত্য স্থাপন করে। পূর্ব আফ্রিকাকে ভেঙে কেনিয়া, উগান্ডা ও জাঞ্জিবার রাজ্য গঠিত হয়। কেনিয়ার মানুষের জমি কেড়ে নিয়ে শ্বেতাঙ্গরা খামার তৈরি করে। এর প্রতিবাদে হ্যারি ঠাকুরের নেতৃত্বে কেনিয়ার সাধারণ মানুষ আন্দোলন শুরু করে। ইংরেজ সরকার হ্যারি ঠাকুরকে কারারুদ্ধ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জোমো কেনিয়াট্টার নেতৃত্বে কেনিয়ার মুক্তি আন্দোলন প্রবল হয়ে ওঠে। পঞ্চাশের দশকে কেনিয়াতে শ্বেতাঙ্গ বিরোধী জঙ্গি মাও মাও আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা শ্বেতাঙ্গদের হত্যার কর্মসূচি নেয়। অপরদিকে ব্রিটিশ সরকারও বিপ্লবীদের নির্বিচারে হত্যা করতে শুরু করে। 1960 খ্রিস্টাব্দে কেনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
• রোডেশিয়া:-
রোডেশিয়া ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। রোডেশিয়া উত্তর ও দক্ষিণ এই দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। (i) উত্তর রোডেশিয়াতে কেনেথ কৌন্ডা-র নেতৃত্বে জাতীয় আন্দোলন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ব্যাপক রূপ ধারণ করে। 1963 খ্রিস্টাব্দে এই দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে এবং উত্তর রোডেশিয়ার নতুন নাম হয় জাম্বিয়া। (ii) উত্তর রোডেশিয়া স্বাধীনতা লাভ করলেও দক্ষিণ রোডেশিয়াতে আয়ান স্মিথের নেতৃত্বে শ্বেতাঙ্গ সরকার কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর অত্যাচার চালাতে থাকে। এর প্রতিবাদে মুগার-এর নেতৃত্বে দক্ষিণ রোডেশিয়ার মানুষ আন্দোলন শুরু করে। অল্পদিনের মধ্যে আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 1980 খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ রোডেশিয়া স্বাধীনতা লাভকরে। এর নতুন নাম হয় জিম্বাবোয়ে।
• অ্যাঙ্গোলা:-
অ্যাঙ্গোলা আফ্রিকার দক্ষিণ অংশে পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। এটি ছিল পোতুর্গিজের উপনিবেশ। আফ্রিকার এই দেশটিতে ইউরোপীয়রা প্রথম তাদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। অগাস্টিনো নেদে-র নেতৃত্বে শুরু হয় মুক্তি আন্দোলন। 1975 খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা লাভ করে।
• মোজাম্বিক:-
মোজাম্বিক আফ্রিকার দক্ষিণ অংশে পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ছিল। এটি ছিল পোর্তুগিজ উপনিবেশ। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের পর 1975 খ্রিস্টাব্দে মোজাম্বিক স্বাধীনতা লাভ করে।
• ঘানা:-
ঘানার আগের নাম ছিল গোল্ড কোস্ট। এটি ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। নকুমার নেতৃত্বে গোল্ড কোস্টের মানুষ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। 1957 খ্রিস্টাব্দে ঘানা স্বাধীনতা লাভ করে।
• নাইজেরিয়া:-
নাইজেরিয়াতে ব্রিটেন আধিপত্য স্থাপন করে উনিশ শতকের আটের দশকে। নাইজেরিয় জাতীয়তাবাদের জনক ছিলেন ড. আজিকুইয়ী। তাঁর নেতৃত্বে 1960 খ্রিস্টাব্দে নাইজেরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
• অন্যান্য দেশ:-
1950-1980 এই ত্রিশ বছরের মধ্যে আফ্রিকার প্রায় সমস্ত দেশে সাম্রাজ্যবাদের অবসান ঘটে। সোমালিল্যান্ড (1960), টাঙ্গানিকা (1961), উগান্ডা (1962), এ্যাডেন (1966), সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, নাইজার, চাদ, মালাগাসে মালি, ক্যামেরুন, টোগো, বেনিন (1960) স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।