You are currently viewing এক নজরে ইউরোপ EUROPE AT A GLANCE
এক নজরে ইউরোপ EUROPE AT A GLANCE

এক নজরে ইউরোপ EUROPE AT A GLANCE

এক নজরে ইউরোপ EUROPE AT A GLANCE. ইউরোপ একটি মহাদেশ, যা বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম মহাদেশ এবং ইউরেশিয়ার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এটি এশিয়ার সাথে একটি বিশাল ভূমিভাগ ভাগ করে নিয়েছে এবং বিশ্বের মোট ভূমি এলাকার প্রায় ১৫% জুড়ে রয়েছে। ইউরোপের ইতিহাসে দীর্ঘ প্রক্রিয়া এটিকে একটি স্বতন্ত্র সভ্যতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে, ইউরোপে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৫০টি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বেশ কয়েকটি নির্ভরশীল অঞ্চল রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি, ভাষা, এবং ঐতিহ্য বিদ্যমান। 

READ MORE – SHORT QUESTION REGARDING EUROPEAN HISTORY ইউরোপের ইতিহাস সম্পর্কে ছোট প্রশ্ন (3000BCE TO PRESENT)

এক নজরে ইউরোপ EUROPE AT A GLANCE

(১) পৃথিবীর ইতিহাসে তিনটি বিপ্লব যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। এগুলি হল- (ক) ফরাসি বিপ্লব, (খ) শিল্প বিপ্লব, (গ) রুশ বিপ্লব।

(২) রুশবিপ্লবের তিনটি পর্যায় ছিল প্রথম পর্যায় ১৯০৫-এর বিপ্লব, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯১১-এর মার্চের বিপ্লব ও তৃতীয় ও সর্বশেষ পর্যায় ১৯১৭-এর অক্টোবর-নভেম্বর বিপ্লব।

(৩) রুশবিপ্লবের সময় রাশিযায় রোমানত রাজবংশ রাজত্ব করতো।

(৪) জার শব্দটি প্রথম চতুর্থ ইভান ষোড়শ শতকে ব্যবহার করেছিলেন।

(৫) দ্বিতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়ার ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটিয়েছিলেন বলে তাকে মুক্তিদাতা জার বলা হয়।

(৬) রাশিয়ার শিল্পান্নয়নে বিদেশি পুঁজির বিশেষ ভূমিকা ছিল।

(৭) ম্যাক্সিম গোর্কির বিখ্যাত উপন্যাসটির নাম ‘মাদার’।

(৮) তুর্গেনেভ-এর বিখ্যাত উপন্যাস হল “Father and Sons” (১৮৬২)।

(৯) ১৯০৩ সালে রাশিয়ার সোসাল ডেমোক্রাটিক পার্টি বলশেভিক ও মেনশেভিক এই দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। লেনিন এই বলশেভিক দলের নেতা ছিলেন।

(১০) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে জাপানের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় হলে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ জারতন্ত্রের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

(১১) জার দ্বিতীয় নিকোলাস রাশিয়াকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিল।

(১২) জার দ্বিতীয় নিকোলাস তার পত্নী রাসপুতিন দ্বারা পরিচালিত ছিলেন। তিনি আবার আলেকজান্দ্রা নামে এক ভন্ড সাবুর নিয়ন্ত্রাণাধীনে ছিলেন।

(১৩) ১৯১৭-এর ১৫ই মার্চ জার দ্বিতীয় নিকোলাস সিংহাসন ত্যাগ করলে রাশিয়ার রোমানভ রাজবংশের অবসান ঘটে। তেমনি জারতন্ত্রের অবসান ঘটে।

(১৪) ১৯১৭-এর মার্চ বিপ্লবের পর প্রিন্স লুকভের নেতৃত্বে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়।

(১৫) এপ্রিল থিসিস ঘোষণা করেছিলেন লেনিন।

(১৬) ১৯১৭-এর ২৫ অক্টোবর (রাশিয়ার ক্যালেন্ডার অনুসারে নভেম্বর) লেনিন ক্ষমতা দখল করলে রুশ বিপ্লব সফলতা অর্জন করে।

(১৭) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৪-১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই চারবছর স্থায়ী হয়েছিল।

(১৮) অতৃপ্ত জাতীয়তাবাদ ও উগ্রজাতীয়তাবাদ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।

(১৯) ১৮৭০-১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় কালকে নবসাম্রাজ্যবাদের যুগ বলা হয়।

(২০) ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ইতালির মধ্যে ত্রিশক্তি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

(২১) ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিশক্তি আঁতাত বা Triple Entante চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

(২২) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে মরক্কো সংকট সৃষ্টি হয়েছিল।

(২৩) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে আগাদির সংকট হয়েছিল।

(২৪) সেরোজেতো হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

(২৫) ১৯১৪-এর ২৮ জুন সেরোজেভো হত্যাকান্ডটি ঘটেছিল।

(২৬) সেরোজেভো হত্যাকান্ডের পর অস্ট্রিয়া সার্বিয়াকে আততায়ীর জাতি বলে আখ্যা দিয়েছিল।

(২৭) ত্রিশক্তি মৈত্রীচুক্তি স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও ইতালি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষে অংশগ্রহণ করেছিল।

(২৮) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ২৬ লক্ষ সেনা নিহত ও ৮০ লক্ষ সেনা আহত হয়।

(২৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর চারটি বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন হয়।

(৩০) উড্রো উইলসনের ১৪ দফা দাবি নীতির ওপর ভিত্তি করে এবং ভার্সাই সন্ধির অঙ্গ হিসাবে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে লিগ অব নেশনস্ গঠন করা হয়।

(৩১) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিসের শাস্তি সম্মেলন আহত হয়েছিল। এই প্যারিসের শাস্তি সম্মেলন সভাপতিত্ব করেছিলেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেনশো।

(৩২) প্যারিসের শাস্তি সম্মেলনের চার প্রধান হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লয়েড জর্জ, ফরাসী প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেনশো, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ডিভোয়িও আলাভো ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। এদের একত্রে চতুঃশক্তি বলা হয়।

(৩৩) পরাজিত জার্মানির সঙ্গে মিত্রপক্ষের ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

(৩৪) প্যারিসের শাস্তি সম্মেলনে মোট পাঁচটি শান্তি চুক্তি মিত্রপক্ষের সঙ্গে পরাজিত রাষ্ট্রগুলি হয়েছিল এগুলি হল-

(ক) ১৯১৯-এর ২৮ জুন জার্মানির সাথে ভার্সাই সন্ধি।

(খ) ১৯১৯-এর ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ার সাথে সেন্ট জামাইন সন্ধি।

(গ) ১৯২০-এর ৩ নভেম্বর হাঙ্গেরির সঙ্গে ট্রিয়ানন সন্ধি।

(ঘ) ১৯২০-এর ২৭ নভেম্বর বুলগেরিয়ার সঙ্গে নিউলির সন্ধি।

(ঙ) ১৯২০-এর ১৬ আগস্ট তুরস্কের সাথে সেভরে সন্ধি।

(৩৫) লীগের মোট চারটি বিভাগ ছিল। এগুলি হল (ক) সাধারণ সভা, (খ) সচিবালয়, (গ) লীগ কাউন্সিল, (ঘ) আন্তর্জাতিক বিচারালয়। তবে লীগের কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী না থাকায় লীগ প্রথম থেকেই দুর্বল ছিল।

(৩৬) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে লীগ অব নেশনের জন্ম হয়। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে লীগের প্রথম অধিবেশন বসে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে লীগ কোমায় চলে যায় ও ১৯৪৬-এর লীগের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়।

(৩৭) ১৯২৯-এর ৩০-এর সালে পৃথিবীতে প্রথম অর্থনৈতিক মহামন্দা হয়েছিল। উক্ত মহামন্দায় পৃথিবীর কমবেশি সমস্ত দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাশিয়া সহ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

(৩৮) ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে মহামন্দার প্রকোপ থেকে ইউরোপ উদ্ধার পায়।

(৩৯) বিংশ শতকের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দল তার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে আমেরিকার উত্থান হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। এমনকি এই একবিংশ শতকেও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

(৪০) জার্মানিতে উগ্রজাতীয়তাবাদ প্রসারের ক্ষেত্রে ভার্সাই সন্ধির ভূমিকা ছিল।

(৪১) ‘ফ্যাসিস্ট’ শব্দের অর্থ হল ‘দড়ি বাঁধা কাষ্ঠ দণ্ড’। এটি প্রাচীন রোমের রাজশক্তির প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হতো।

(৪২) ফ্যাসিস্ট দলের অনুগামীরা কালো জামা পরিধান করতো তাই তাদের ব্ল‍্যাক শার্ট বলা হয়।

(৪৩) তৃতীয় ভিক্টর ইমান্যুয়েলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে মুসোলিনী ইতালির প্রধানমন্ত্রীত্ব পদ গ্রহণ করে।

(৪৪) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মুসোলিনী পোপের সঙ্গে ল্যাটেরান চুক্তি করে ক্যাথলিক ধর্মকে ইতালির রাষ্ট্রীয় ধর্মরূপে স্বীকৃতি দেন।

(৪৫) মুসোলিনী ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে আবিসিনিয়া আক্রমণ করে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে আবিসিনিয়া দখল করেছিলেন। সেই সময় আবিসিনিয়ার সেনাপতি ছিলেন হাইলে সেলেসি।

(৪৬) প্রগতি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বেনিটো মুসোলিনী তিনি ইলদুচে উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

(৪৭) রোমে অবস্থানকারী ফ্যাসিবাদী প্রতিনিধিদের পোদেস্তাম বলা হতো।

(৪৮) ‘নারীদের মাতৃত্ব যেমন স্বাভাবিক তেমনি পুরুষদের যুদ্ধও স্বাভাবিক।’- উক্তিটি মুসোলিনীর। (৪৯) ‘আন্তর্জাতিক শান্তি হল কাপুরুষের স্বপ্ন’। উক্তিটি ইতালির রাষ্ট্র প্রধান মুসোলিনীর।

(৫০) জার্মানিতে হিটলার ‘ফুয়েরার’ নামে পরিচিত।

(৫১) জার্মান ওয়াকার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ডেক্সলার। হিটলার এই দলে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে যোগ দিয়েছিলেন।

(৫২) হিটলার ফ্রান্সকে জার্মানির শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন।

(৫৩) Strom Troopers বা ঝটিকা বাহিনী এরনেস্ট রে‍্যামের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল। এই দলের সদস্যরা বাদামী পোশাক পরতো বলে এদের ব্রাউন শার্টস (Brown Shirts)ও বলা হয়।

(৫৪) হিটলারের গেস্টাপো বা গুন্ডা পুলিশ বাহিনীর প্রধান নেতা ছিলেন হিমলার। এদের কাজ ছিল নাৎসী দলের সমালোচকদের গোপনে হত্যা করা হয় যা ‘Final Solution’ নামে পরিচিত।

(৫৫) হেরেনভক ও লেবেনভ্রম তত্ত্বের প্রবর্তক ছিলেন হিটলার।

(৫৬) ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক বক্তা বলা হয় নাৎসী প্রধান অ্যাডলফ হিটলারকে।

(৫৭) মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে জার্মান নেতাদের জীবনরক্ষা করার জন্য এলিট গাউস বাহিনী গঠিত হয়েছিল।

(৫৮) ন্যাৎসীদলের প্রতীক ছিল স্বস্তিকা চিহ্ন। এই দলের মুখপাত্রের নাম ছিল পিপলস অবজারভার।

(৫৯) পোল্যান্ডকে নিরপেক্ষ রেখে সোভিয়েত রাশিয়াও পূর্ব ইউরোপে নাৎসী প্রাধান্য স্থাপনের নীতিকে বলা হয় লেবেনজম।

(৬০) জার্মানির বিমানবাহিনীর নাম ছিল লুফৎ ওয়াফ।

(৬১) জার্মান সঙ্গীতজ্ঞ ভগানার রচিত ‘জাগ্রত জার্মানি’ হল জার্মানির জাতীয় সঙ্গীত।

(৬২) হিটলারের জার্মানির সঙ্গে অস্ট্রিয়ার সংযুক্তিকে বলা হতো আনশ্লষ।

(৬৩) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেন মিউনিখ চুক্তিকে সম্মানজনক চুক্তি বলেছিলেন।

(৬৪) স্পেনের গৃহযুদ্ধকে ল্যাংসাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া বলেছেন।

(৬৫) স্পেনে ফ্রাঙ্কো কডিলো নামে পরিচিত তার, তার নেতৃত্বে স্পেনে গঠিত রাজনৈতিক দলটির নাম হল ফ্যালঙ্গিস্ট।

(৬৬) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ফ্রাঙ্কো স্পেনের প্রজাতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

(৬৭) ইংল্যান্ড ফ্রান্স সহ ইউরোপের ২৭টি দেশ এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ ছিল।

(৬৮) ইতালি জার্মানি ফ্রাঙ্কোকে সাহায্য করেছিল।

(৬৯) ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি হয় ফ্রাঙ্কোর জয়লাভের মধ্য দিয়ে।

এক নজরে ইউরোপ (EUROPE AT A GLANCE)

Leave a Reply