অষ্টদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা

অষ্টদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা – অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভারতীয় অর্থনীতি কৃষি ও কারিগরির উপর নির্ভরশীল ছিল, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্রিটিশ শাসনের উত্থানের কারণে এটি অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হয়। একদিকে যেমন উন্নত বস্ত্রশিল্পের উপস্থিতি ছিল, অন্যদিকে ভূমি রাজস্বের উচ্চ চাহিদা ও কর্মকর্তাদের শোষণ কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে, যা চূড়ান্ত দারিদ্র্য ও বৈষম্যের জন্ম দেয়। 

READ MORE – 1940 এর দশকে ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী গণআন্দোলন

অষ্টদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা

অষ্টাদশ শতকে (1701-1800) ভারতীয় অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক, তবে কিছু ক্ষেত্রে কুটির শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারও ঘটেছিল। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর আঞ্চলিক শক্তিগুলির উত্থান হয় এবং এই সময়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই শতকের শেষভাগে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ভারতীয় অর্থনীতি একটি রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যায়, যা ছিল মূলত ব্রিটিশদের স্বার্থে পরিচালিত।

এক নজরে অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

কৃষি:

অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সাথে যুক্ত ছিল। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে ধান, গম, জোয়ার, বাজরা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ছিল। সেচ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত ছিল, যার কারণে কৃষিকাজ প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর নির্ভরশীল ছিল। অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় কৃষি প্রযুক্তিগতভাবে বেশ পিছিয়ে ছিল এবং মূলত ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল ছিল। এই সময়ে, কৃষিতে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি এবং উৎপাদন কৌশলগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একই রকম ছিল। কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সেচ ব্যবস্থার অভাব ছিল। কৃষকরা মূলত তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করত। চাষাবাদ, বীজ বপন, ফসল কাটা এবং শস্য সংরক্ষণে পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। জমিদারি প্রথা প্রচলিত ছিল এবং কৃষকরা জমিদারদের অধীনে কাজ করত। তাদের খাজনা এবং অন্যান্য কর দিতে হত।

 কিছু নির্দিষ্ট ফসল যেমন – ধান, গম, ভুট্টা, ডাল এবং তৈলবীজ প্রধান ছিল। এছাড়াও কিছু বাণিজ্যিক ফসল যেমন – নীল, তুলা, এবং আফিম চাষ করা হত। সেচ ব্যবস্থা মূলত প্রাকৃতিক উৎস যেমন – নদী এবং পুকুর নির্ভর ছিল। কিছু অঞ্চলে খাল খনন করে সেচের ব্যবস্থা করা হলেও তা যথেষ্ট ছিল না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন – ভূমিকম্প ও বন্যা প্রায়ই দেখা দিত, যা কৃষিতে বিরূপ প্রভাব ফেলত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ফসল যেমন – নীল, তুলা, এবং আফিম বিদেশে রফতানি করা হত, যা কৃষকদের আয়ের একটি অংশ ছিল। এই শতকে ভারতীয় কৃষি মূলত জীবিকা নির্বাহের জন্য ছিল এবং কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে খাদ্য উৎপাদন করত। তবে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদনশীলতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

কুটির শিল্প:

বস্ত্র, মৃৎশিল্প, ধাতুবিদ্যা, কারুশিল্প ইত্যাদি কুটির শিল্পের প্রসার ঘটেছিল। বিশেষ করে বাংলায় মসলিন বস্ত্র ছিল বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এই সময়ে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ ছিল। তুলা, রেশম এবং পশমের বস্ত্র তৈরি হত এবং বিভিন্ন ধরণের নকশা ও বয়ন কৌশল ব্যবহৃত হত। বিশেষ করে বাংলা, সুরাট, বেনারস ইত্যাদি অঞ্চলে বস্ত্রবয়ন শিল্প বিশেষভাবে উন্নত ছিল। মৃৎশিল্প ছিল কুটির শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল, অলঙ্কৃত থালা-বাসন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ছিল।

এই সময়ে ধাতু দিয়ে বাসনপত্র, অলঙ্কার, অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি তৈরি করা হত। কাঠ, বাঁশ, চামড়া, ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন ধরণের কারুশিল্প তৈরি করা হত। ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট সস্তা, যন্ত্রে তৈরি পণ্যের কারণে ভারতীয় কুটির শিল্পগুলি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়। ব্রিটিশ সরকার ভারতে তাদের উৎপাদিত বস্ত্র সহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করতে শুরু করে, যা ভারতীয় কুটির শিল্পের বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই পরিস্থিতিতে, ভারতীয় কুটির শিল্পগুলি তাদের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতি এবং নকশার কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে সমস্যায় পড়েছিল। অনেক কারিগর তাদের জীবিকা হারিয়েছিল। সংক্ষেপে, অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় কুটির শিল্পগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা পালন করত, তবে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে শিল্প বিপ্লবের কারণে তাদের পতন ঘটেছিল।

বাণিজ্য:

অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল কলকাতা, সুরাট, মুম্বাই ইত্যাদি। ইউরোপীয় বণিকদের আগমন ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় বাণিজ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এই সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে আঞ্চলিক শক্তিগুলির উত্থান ঘটে, যার ফলস্বরূপ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। একই সাথে, ইউরোপীয় বণিকদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা বিস্তার লাভ করে।

অষ্টাদশ শতকে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্বিন্যাস করে। বাংলা, হায়দ্রাবাদ, অযোধ্যা, এবং মারাঠা সাম্রাজ্যের মতো নতুন রাজ্যগুলি নিজেদের স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে, বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুগুলিও স্থানান্তরিত হতে থাকে এবং স্থানীয় বণিকদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।  অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে তাদের বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করে। তারা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে শুরু করে এবং অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের (যেমন ওলন্দাজ এবং ফরাসি) হটিয়ে দেয়।

পূর্বে সুরাট, মুসলিম বণিকদের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল, কিন্তু অষ্টাদশ শতকে কলকাতা, বোম্বাই এবং মাদ্রাজের মতো নতুন কেন্দ্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই শহরগুলিতে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে এবং তাদের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। এই সময়ে ভারতীয় বাণিজ্যে বস্ত্র, মশলা, নীল, আফিম, এবং অন্যান্য কাঁচামালের ব্যবসা হতো। ব্রিটিশরা মূলত এই পণ্যগুলি ইউরোপে রপ্তানি করত এবং বিনিময়ে সোনা ও রূপা আমদানি করত। অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে, ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক নীতি ভারতীয় কুটির শিল্প এবং হস্তশিল্পের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করত এবং একই সাথে ব্রিটিশ পণ্যগুলিকে ভারতে অবাধে প্রবেশ করার সুযোগ দিত।

এর ফলে ভারতীয় কুটির শিল্পগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক ধরণের অবশিল্পায়ন শুরু হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবেও বাণিজ্যে জড়িত ছিল। তারা কোম্পানির একচেটিয়া অধিকারের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবসা করত। অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যও বেশ সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন প্রদেশ যেমন বাংলা, কাশী, বুন্দেলখণ্ড, মালব, লাহোর, মুলতান ও সিন্ধু প্রদেশের সাথে বাংলার ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ব্রিটিশরা ভারতে আসার পর তাদের বাণিজ্যিক নীতিগুলি ভারতীয় অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই নীতিগুলি প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল । অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় বাণিজ্যে একটি রূপান্তরমূলক সময় ছিল, যেখানে আঞ্চলিক শক্তির উত্থান, ইউরোপীয় বণিকদের প্রভাব বৃদ্ধি, এবং ব্রিটিশ বাণিজ্যিক নীতির কারণে ভারতীয় অর্থনীতি ও সমাজে পরিবর্তন আসে।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব:  

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। পলাশীর যুদ্ধের (১৭৫৭) পর ব্রিটিশরা বাংলা সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই সময়ে ব্রিটিশরা ভারতীয় অর্থনীতিকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে শুরু করে, যা ভারতীয় শিল্পের অবনতি ঘটায়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতে প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে।

কোম্পানিটি বাণিজ্যিকভাবে ভারতে প্রবেশ করলেও, ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো দেশ শাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। এই সময়ে কোম্পানির কার্যকলাপের ফলে ভারতীয় অর্থনীতি, সমাজ এবং রাজনীতিতে গভীর প্রভাব পড়েছিল। কোম্পানি স্থানীয় শাসকদের দুর্বল করে দিয়ে তাদের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে বাংলা, বিহার ও ওড়িশ্যার রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে, যা তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করে। কোম্পানি একচেটিয়া বাণিজ্যের মাধ্যমে ভারতীয় সম্পদ শোষণ করে এবং ব্রিটিশ শিল্পায়নকে উৎসাহিত করে। দেশীয় কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, কারণ ব্রিটিশ পণ্য ভারতীয় বাজারে সয়লাব হয়ে যায়। কৃষি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে, যেখানে কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে উচ্চহারে খাজনা আদায় করত।

অর্থনৈতিক বৈষম্য:

ব্রিটিশ শাসনের কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। কৃষক ও শ্রমিকদের উপর করের বোঝা বাড়ে। ব্রিটিশদের বাণিজ্য নীতি ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষতি করে। অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে বেশ কিছু পরিবর্তন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় অর্থনীতিকে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করে, যার ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন ধরনের শোষণ ও বৈষম্য তৈরি হয়। ব্রিটিশরা ভারতীয় কৃষকদের উপর অতিরিক্ত কর চাপিয়ে দেয় এবং জমির মালিকানা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে, যার ফলে কৃষক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্রিটিশ সরকার দেশীয় শিল্প ও কারুশিল্পকে ধ্বংস করে, এবং ভারতীয় বাজারকে ব্রিটিশ পণ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, যার ফলে ভারতীয় শিল্পগুলি  যায়। ব্রিটিশরা ভারত থেকে কাঁচামাল সস্তায় নিয়ে যেত এবং তাদের দেশে তৈরি পণ্য উচ্চ দামে বিক্রি করত, যা ‘অর্থনৈতিক নিষ্ক্রমণ’ নামে পরিচিত। এর ফলে ভারতের সম্পদ ব্রিটেনের দিকে চলে যায়। ব্রিটিশ শাসনের ফলে ভারতে ব্যাপক দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ব্রিটিশ শাসনের কারণে আয় এবং সম্পদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান বাড়ে।

ব্রিটিশরা জমিদার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যার ফলে কিছু মানুষ বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের জমি ও জীবিকা হারায়। এই সমস্ত কারণে, অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে একটি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান অনেক কমে যায়। অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতি একটি জটিল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। একদিকে যেমন কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে ব্রিটিশ শাসনের ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন সংকট সৃষ্টি হয়। এই শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ভারতীয় অর্থনীতি একটি নতুন পথে যাত্রা শুরু করে, যা ছিল মূলত ব্রিটিশদের স্বার্থে পরিচালিত।

অষ্টদশ শতকে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা

Leave a Reply